মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৮:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ মোতায়েনে মার্কিন নৌসেনাদের দুর্বিষহ জীবন: পেন্টাগনের কাছে জবাব চাইলেন সিনেটর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন রণতরীর নাবিকদের জীবনযাপন ও কাজের পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হাং কাওয়ের কাছে জবাব চেয়েছেন মার্কিন সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। বুধবার, সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য ব্লুমেনথাল একটি চিঠির মাধ্যমে জানান যে, রণতরীটিতে মৌলিক সরঞ্জামের ঘাটতি, পানি দূষণ, প্লাম্বিং সমস্যা, নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, ডেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ডাকব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার খবর পাওয়া গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এর ফলে রণতরীটির জন্য পাঠানো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কেয়ার প্যাকেজ মাসের পর মাস ধরে হারিয়ে যাচ্ছে।

সিনেটর ব্লুমেনথাল জানান, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো নৌঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রাথমিকভাবে সাত মাসের জন্য এই মোতায়েন নির্ধারিত ছিল এবং মে মাসে রণতরীটির ফেরার কথা ছিল। তবে পরে এর মোতায়েনের মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয় এবং বর্তমানে ফেরার কোনো তারিখ প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। সিনেটরের দাবি, রণতরীটি কোনো বন্দরে বিরতি না দিয়ে একটানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সাগরে রয়েছে, যা ধারাবাহিকভাবে সাগরে থাকার ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড স্থাপন করেছে।

এই দীর্ঘমেয়াদী মোতায়েনের ফলে মার্কিন নৌবাহিনী একই সঙ্গে বিমানবাহী রণতরীগুলোর উপর ক্রমবর্ধমান অভিযানের চাপ সামলাতে, নাবিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে, সরঞ্জামের কার্যকারিতা বজায় রাখতে এবং নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে কিনা, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ব্লুমেনথাল অভিযোগ করেন যে, এসব অভিযোগের দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরীগুলোকে যে মাত্রার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা সম্ভব কিনা।

ইরানকে ঘিরে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযান এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি আরও দীর্ঘ হতে পারে—এমন পরিস্থিতিতে লিঙ্কনের এই দীর্ঘ মোতায়েনকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রশাসন যদি দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযান বা ওই অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরীর বাড়তি উপস্থিতি বজায় রাখতে চায়, তবে বর্তমান সামরিক চাহিদা যেন ভবিষ্যতে নৌবাহিনীর প্রস্তুতিতে সংকট তৈরি না করে, তা নিশ্চিত করার একটি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এ ছাড়া, দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকলে বিমানবাহী রণতরীতে কাজের অন্তর্নিহিত ঝুঁকিও বাড়ে বলে তিনি সতর্ক করেন, বিশেষ করে নাবিকদের জেট ইঞ্জিন এবং অন্যান্য জটিল সরঞ্জামের ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর পাশে ছয় আরব দেশ, মরক্কোও তালিকায়

দীর্ঘ মোতায়েনে মার্কিন নৌসেনাদের দুর্বিষহ জীবন: পেন্টাগনের কাছে জবাব চাইলেন সিনেটর

আপডেট সময় : ০৫:১৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন রণতরীর নাবিকদের জীবনযাপন ও কাজের পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হাং কাওয়ের কাছে জবাব চেয়েছেন মার্কিন সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। বুধবার, সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য ব্লুমেনথাল একটি চিঠির মাধ্যমে জানান যে, রণতরীটিতে মৌলিক সরঞ্জামের ঘাটতি, পানি দূষণ, প্লাম্বিং সমস্যা, নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, ডেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ডাকব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার খবর পাওয়া গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এর ফলে রণতরীটির জন্য পাঠানো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কেয়ার প্যাকেজ মাসের পর মাস ধরে হারিয়ে যাচ্ছে।

সিনেটর ব্লুমেনথাল জানান, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো নৌঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রাথমিকভাবে সাত মাসের জন্য এই মোতায়েন নির্ধারিত ছিল এবং মে মাসে রণতরীটির ফেরার কথা ছিল। তবে পরে এর মোতায়েনের মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয় এবং বর্তমানে ফেরার কোনো তারিখ প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। সিনেটরের দাবি, রণতরীটি কোনো বন্দরে বিরতি না দিয়ে একটানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সাগরে রয়েছে, যা ধারাবাহিকভাবে সাগরে থাকার ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড স্থাপন করেছে।

এই দীর্ঘমেয়াদী মোতায়েনের ফলে মার্কিন নৌবাহিনী একই সঙ্গে বিমানবাহী রণতরীগুলোর উপর ক্রমবর্ধমান অভিযানের চাপ সামলাতে, নাবিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে, সরঞ্জামের কার্যকারিতা বজায় রাখতে এবং নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে কিনা, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ব্লুমেনথাল অভিযোগ করেন যে, এসব অভিযোগের দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরীগুলোকে যে মাত্রার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা সম্ভব কিনা।

ইরানকে ঘিরে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযান এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি আরও দীর্ঘ হতে পারে—এমন পরিস্থিতিতে লিঙ্কনের এই দীর্ঘ মোতায়েনকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রশাসন যদি দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযান বা ওই অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরীর বাড়তি উপস্থিতি বজায় রাখতে চায়, তবে বর্তমান সামরিক চাহিদা যেন ভবিষ্যতে নৌবাহিনীর প্রস্তুতিতে সংকট তৈরি না করে, তা নিশ্চিত করার একটি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এ ছাড়া, দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকলে বিমানবাহী রণতরীতে কাজের অন্তর্নিহিত ঝুঁকিও বাড়ে বলে তিনি সতর্ক করেন, বিশেষ করে নাবিকদের জেট ইঞ্জিন এবং অন্যান্য জটিল সরঞ্জামের ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে।