মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

পাখির প্রতি ভালোবাসা: ছোট্ট টুটুলের গাছ বাঁচানোর গল্প

চারপাশের গাছগাছালি আর পাখির কিচিরমিচির ডাকে প্রতিদিন ঘুম ভাঙে ছোট্ট টুটুলের। পাখিদের সঙ্গে তার এক নিবিড় সখ্যতা। বন্ধু সুমনকে নিয়ে সে প্রতিদিন পাখিদের জন্য গাছের নিচে ধান ছিটিয়ে দেয়, আর পাখিরা নিশ্চিন্তে এসে তা খায়। পাখিদের সঙ্গে তাদের খুনসুটি আর আনন্দময় সময় কাটে।

একদিন মায়ের কাছে টুটুল প্রশ্ন করে, “মা, তুমি তো আমাকে রান্না করে খাওয়াও, আদর করো। পাখিদের তো কেউ খাওয়ায় না, আদরও করে না।” মায়ের জবাব শুনে টুটুল আরও বেশি গাছ লাগানোর প্রতিজ্ঞা করে, যেন পাখিরা ফল খেতে পারে এবং সবাই অক্সিজেন পায়।

কিন্তু একদিন মহিউদ্দিন দাদুবাড়ির পুরোনো বড় গাছটি বিক্রি করে দেন। গাছ কাটার খবর শুনে টুটুল ছুটে যায় দাদুর কাছে, অনুরোধ করে গাছটি না কাটার জন্য, কারণ পাখিরা তখন কোথায় থাকবে? দাদু জানান, সংসার চালানোর জন্য তাকে গাছটি বিক্রি করতে হয়েছে। টুটুল তার মায়ের কাছে ছুটে গিয়ে বিষয়টি জানায়। মা নাহিদা চিন্তিত হয়ে মহিউদ্দিনের কাছে যান এবং গাছটি না কাটার অনুরোধ করেন। দাদু তার অসহায়ত্বের কথা জানালে টুটুল মাকে গাছটি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেয়।

মা নাহিদা তার বাবার সঙ্গে কথা বলে টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করেন। মহিউদ্দিনও রাজি হন যদি সময়মতো টাকা দেওয়া যায়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গাছের টাকা জোগাড় হয়নি এবং গাছ কাটতে আসা লোকজন চলে আসে। টুটুল তখন সুমনকে বলে, “গাছে পাখির বাসায় ছানা আছে!” পাখির ছানাদের বাঁচাতে সে গাছে উঠে ছানাগুলো ব্যাগে ভরে রশি দিয়ে নিচে নামায়। সুমন নিচে নিরাপদে ছানাগুলো রাখে। ছানা আনতে গিয়ে একটি চিকন ডালে উঠলে ডাল ভেঙে টুটুল নিচে পড়ে যায়।

সুমন দ্রুত টুটুলের বাবা-মাকে খবর দেয়। বাবা মোতাহার আর মা নাহিদা দ্রুত ছুটে এসে ছেলেকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। তাদের যাওয়ার পথে দেখা যায়, অসংখ্য পাখির ঝাঁক যেন টুটুলের সঙ্গেই উড়ে যাচ্ছে, কিচিরমিচির শব্দে পুরো এলাকা মুখরিত করে তুলছে। টুটুলের এই ত্যাগ ও ভালোবাসার গল্প কেবল একটি গাছের নয়, বরং প্রকৃতির প্রতি অকৃত্রিম মমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিফার রাজনীতিতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ: ইনফান্তিনোর পক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা

পাখির প্রতি ভালোবাসা: ছোট্ট টুটুলের গাছ বাঁচানোর গল্প

আপডেট সময় : ০২:০৯:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

চারপাশের গাছগাছালি আর পাখির কিচিরমিচির ডাকে প্রতিদিন ঘুম ভাঙে ছোট্ট টুটুলের। পাখিদের সঙ্গে তার এক নিবিড় সখ্যতা। বন্ধু সুমনকে নিয়ে সে প্রতিদিন পাখিদের জন্য গাছের নিচে ধান ছিটিয়ে দেয়, আর পাখিরা নিশ্চিন্তে এসে তা খায়। পাখিদের সঙ্গে তাদের খুনসুটি আর আনন্দময় সময় কাটে।

একদিন মায়ের কাছে টুটুল প্রশ্ন করে, “মা, তুমি তো আমাকে রান্না করে খাওয়াও, আদর করো। পাখিদের তো কেউ খাওয়ায় না, আদরও করে না।” মায়ের জবাব শুনে টুটুল আরও বেশি গাছ লাগানোর প্রতিজ্ঞা করে, যেন পাখিরা ফল খেতে পারে এবং সবাই অক্সিজেন পায়।

কিন্তু একদিন মহিউদ্দিন দাদুবাড়ির পুরোনো বড় গাছটি বিক্রি করে দেন। গাছ কাটার খবর শুনে টুটুল ছুটে যায় দাদুর কাছে, অনুরোধ করে গাছটি না কাটার জন্য, কারণ পাখিরা তখন কোথায় থাকবে? দাদু জানান, সংসার চালানোর জন্য তাকে গাছটি বিক্রি করতে হয়েছে। টুটুল তার মায়ের কাছে ছুটে গিয়ে বিষয়টি জানায়। মা নাহিদা চিন্তিত হয়ে মহিউদ্দিনের কাছে যান এবং গাছটি না কাটার অনুরোধ করেন। দাদু তার অসহায়ত্বের কথা জানালে টুটুল মাকে গাছটি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেয়।

মা নাহিদা তার বাবার সঙ্গে কথা বলে টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করেন। মহিউদ্দিনও রাজি হন যদি সময়মতো টাকা দেওয়া যায়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গাছের টাকা জোগাড় হয়নি এবং গাছ কাটতে আসা লোকজন চলে আসে। টুটুল তখন সুমনকে বলে, “গাছে পাখির বাসায় ছানা আছে!” পাখির ছানাদের বাঁচাতে সে গাছে উঠে ছানাগুলো ব্যাগে ভরে রশি দিয়ে নিচে নামায়। সুমন নিচে নিরাপদে ছানাগুলো রাখে। ছানা আনতে গিয়ে একটি চিকন ডালে উঠলে ডাল ভেঙে টুটুল নিচে পড়ে যায়।

সুমন দ্রুত টুটুলের বাবা-মাকে খবর দেয়। বাবা মোতাহার আর মা নাহিদা দ্রুত ছুটে এসে ছেলেকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। তাদের যাওয়ার পথে দেখা যায়, অসংখ্য পাখির ঝাঁক যেন টুটুলের সঙ্গেই উড়ে যাচ্ছে, কিচিরমিচির শব্দে পুরো এলাকা মুখরিত করে তুলছে। টুটুলের এই ত্যাগ ও ভালোবাসার গল্প কেবল একটি গাছের নয়, বরং প্রকৃতির প্রতি অকৃত্রিম মমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।