মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

মেসির জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বাবা হোর্হে: এক মহাকাব্যিক পিতার স্মৃতি

লিওনেল মেসির বার্সেলোনায় আগমনের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ছিল ২০০০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবা হোর্হে মেসির সঙ্গে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে কিশোর মেসি পা রেখেছিলেন কাতালুনিয়ার মাটিতে। বার্সেলোনা শহর তখন তার সামনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। সেই স্বপ্নযাত্রার পুরোটা সময় জুড়ে, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে, হোর্হে মেসি ছিলেন তার ছেলের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এক বটবৃক্ষের মতো ছায়া। গত ৮ আগস্ট, ৬৮ বছর বয়সে, সেই স্নেহময়ী ছায়া অনন্তলোকে পাড়ি জমিয়েছে, রেখে গেছে পিতা-পুত্র জুটির এক মহাকাব্যিক অধ্যায়।

রোজারিওর এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা হোর্হে মেসির জীবন ছিল তার ছেলের প্রতিভার অন্বেষণ ও বিকাশের এক নিরন্তর সংগ্রাম। ছোটবেলায়, মাত্র চার বছর বয়সে, যখন মেসি স্থানীয় গ্রান্দোলি ক্লাবে খেলা শুরু করেন, তখন হোর্হে কেবল একজন দর্শক ছিলেন না, তিনি তার ছেলের মধ্যে দেখেছিলেন এক অন্যরকম প্রতিভা। নিউ ওয়েলস ওল্ড বয়েজে মেসির নাম যখন ফুটবল বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তখন সামনে এসে দাঁড়ায় এক কঠিন বাস্তবতা – মেসির শরীরে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি। এই চিকিৎসার ব্যয় ছিল পরিবারের জন্য বিশাল বোঝা। ইস্পাত কারখানায় কর্মরত হোর্হে তখন এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন: অর্থনৈতিক বাস্তবতা নাকি ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। তিনি বেছে নিয়েছিলেন দ্বিতীয়টি, কারণ তিনি বুঝেছিলেন, মেসির প্রতিভাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে চিকিৎসা ও ফুটবল দুটিই চালিয়ে যেতে হবে। সেই অদম্য সংকল্পই তাকে একদিন নিয়ে যায় স্পেনে, বার্সেলোনার তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লোস রেক্সাচের সেই ঐতিহাসিক ন্যাপকিনে চুক্তির প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত, যা ফুটবল ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে আছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

মেসির জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বাবা হোর্হে: এক মহাকাব্যিক পিতার স্মৃতি

আপডেট সময় : ১০:৩৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

লিওনেল মেসির বার্সেলোনায় আগমনের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ছিল ২০০০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবা হোর্হে মেসির সঙ্গে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে কিশোর মেসি পা রেখেছিলেন কাতালুনিয়ার মাটিতে। বার্সেলোনা শহর তখন তার সামনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। সেই স্বপ্নযাত্রার পুরোটা সময় জুড়ে, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে, হোর্হে মেসি ছিলেন তার ছেলের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এক বটবৃক্ষের মতো ছায়া। গত ৮ আগস্ট, ৬৮ বছর বয়সে, সেই স্নেহময়ী ছায়া অনন্তলোকে পাড়ি জমিয়েছে, রেখে গেছে পিতা-পুত্র জুটির এক মহাকাব্যিক অধ্যায়।

রোজারিওর এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা হোর্হে মেসির জীবন ছিল তার ছেলের প্রতিভার অন্বেষণ ও বিকাশের এক নিরন্তর সংগ্রাম। ছোটবেলায়, মাত্র চার বছর বয়সে, যখন মেসি স্থানীয় গ্রান্দোলি ক্লাবে খেলা শুরু করেন, তখন হোর্হে কেবল একজন দর্শক ছিলেন না, তিনি তার ছেলের মধ্যে দেখেছিলেন এক অন্যরকম প্রতিভা। নিউ ওয়েলস ওল্ড বয়েজে মেসির নাম যখন ফুটবল বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তখন সামনে এসে দাঁড়ায় এক কঠিন বাস্তবতা – মেসির শরীরে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি। এই চিকিৎসার ব্যয় ছিল পরিবারের জন্য বিশাল বোঝা। ইস্পাত কারখানায় কর্মরত হোর্হে তখন এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন: অর্থনৈতিক বাস্তবতা নাকি ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। তিনি বেছে নিয়েছিলেন দ্বিতীয়টি, কারণ তিনি বুঝেছিলেন, মেসির প্রতিভাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে চিকিৎসা ও ফুটবল দুটিই চালিয়ে যেতে হবে। সেই অদম্য সংকল্পই তাকে একদিন নিয়ে যায় স্পেনে, বার্সেলোনার তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লোস রেক্সাচের সেই ঐতিহাসিক ন্যাপকিনে চুক্তির প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত, যা ফুটবল ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে আছে।