মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৬:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুর্বলতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। পত্রিকাটি তার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, বিশেষ করে জর্ডানে চালানো হামলা, শত্রুপক্ষের এসব অস্ত্রের হুমকিকে আরও স্পষ্ট করেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে, এই হামলাগুলো প্রমাণ করে যে বিদেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মীদের সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ২ হাজারেরও বেশি বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং আটটি দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত অন্তত ২০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

মার্কিন এই সংবাদপত্রের আরও দাবি, এখন পর্যন্ত শুধু সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির হিসাবেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি করেছে। সব মিলিয়ে ইরান ৪২টিরও বেশি মার্কিন সামরিক বিমান ধ্বংস করেছে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। পত্রিকাটি লিখেছে, ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। এই সংঘাতে দেড় হাজারেরও বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার ক্রুজ ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র পুনরায় মজুত করতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। এই ঘাটতি যুদ্ধের আগেই ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কারণে তৈরি হয়েছিল, যা এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সংকটে পরিণত হয়েছে। এর ফলে ইউরোপ ও এশিয়ায় সম্ভাব্য হুমকির জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। রাশিয়া ও চীন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রায় ৪ কোটি টাকার স্বর্ণসহ গাড়ি উদ্ধার, চালক পলাতক

ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

আপডেট সময় : ০৪:৩০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুর্বলতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। পত্রিকাটি তার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, বিশেষ করে জর্ডানে চালানো হামলা, শত্রুপক্ষের এসব অস্ত্রের হুমকিকে আরও স্পষ্ট করেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে, এই হামলাগুলো প্রমাণ করে যে বিদেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মীদের সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ২ হাজারেরও বেশি বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং আটটি দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত অন্তত ২০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

মার্কিন এই সংবাদপত্রের আরও দাবি, এখন পর্যন্ত শুধু সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির হিসাবেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি করেছে। সব মিলিয়ে ইরান ৪২টিরও বেশি মার্কিন সামরিক বিমান ধ্বংস করেছে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। পত্রিকাটি লিখেছে, ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। এই সংঘাতে দেড় হাজারেরও বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার ক্রুজ ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র পুনরায় মজুত করতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। এই ঘাটতি যুদ্ধের আগেই ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কারণে তৈরি হয়েছিল, যা এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সংকটে পরিণত হয়েছে। এর ফলে ইউরোপ ও এশিয়ায় সম্ভাব্য হুমকির জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। রাশিয়া ও চীন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।