মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

সংসদে আলোচনা প্রসঙ্গে মোদি সরকারের নমনীয়তা: ছাত্র আন্দোলনের চাপে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত

ভারতের সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের অভিযানের বিষয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত আলোচনায় সরকার প্রস্তুত। বিরোধীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেও এই বিষয়ে সংসদে বক্তব্য দিতে প্রস্তুত আছেন। তবে, তিনি আলোচনার সময় বিরোধীদের কোনো ধরনের ‘হট্টগোল’ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিজিজু বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। তবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বক্তব্য দেবেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে জবাব দেওয়া হবে, তখন বিরোধীদের মনোযোগ দিয়ে তা শুনতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রস্তাব অত্যন্ত স্পষ্ট—শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত আলোচনা করতে তারা প্রস্তুত। তার একমাত্র অনুরোধ, আলোচনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব দেওয়ার সময় বিরোধীরা যেন এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না করেন, যাতে বক্তব্য দেওয়া বাধাগ্রস্ত হয়।

সরকারের এই অবস্থান এমন এক সময়ে এলো যখন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক কলামে শিক্ষার্থী বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তীব্র সমালোচনা করেন। ওই লেখায় রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অভিযানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো তদন্তের নির্দেশ দেননি এবং এ নিয়ে কোনো বিবৃতিও দেননি। তিনি দাবি করেন, সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বিরোধীদের দেওয়া প্রস্তাবও বারবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ ও পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশের হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন এবং নারীদেরও লাঠিপেটা করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের ওপরও লাঠিচার্জ করা হয়েছে। বিহারের সিওয়ানে শিক্ষার্থী বিক্ষোভে আগ্নেয়াস্ত্র, এমনকি একে-৪৭ ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন রাহুল গান্ধী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই বেআইনি ও অসাংবিধানিক সহিংসতার অনুমোদন কে দিয়েছিল?

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফল বিক্রেতার মোবাইল ফোন নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়লেন এসআই, বিপাকে পুলিশ

সংসদে আলোচনা প্রসঙ্গে মোদি সরকারের নমনীয়তা: ছাত্র আন্দোলনের চাপে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের অভিযানের বিষয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত আলোচনায় সরকার প্রস্তুত। বিরোধীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেও এই বিষয়ে সংসদে বক্তব্য দিতে প্রস্তুত আছেন। তবে, তিনি আলোচনার সময় বিরোধীদের কোনো ধরনের ‘হট্টগোল’ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিজিজু বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। তবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বক্তব্য দেবেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে জবাব দেওয়া হবে, তখন বিরোধীদের মনোযোগ দিয়ে তা শুনতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রস্তাব অত্যন্ত স্পষ্ট—শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত আলোচনা করতে তারা প্রস্তুত। তার একমাত্র অনুরোধ, আলোচনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব দেওয়ার সময় বিরোধীরা যেন এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না করেন, যাতে বক্তব্য দেওয়া বাধাগ্রস্ত হয়।

সরকারের এই অবস্থান এমন এক সময়ে এলো যখন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক কলামে শিক্ষার্থী বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তীব্র সমালোচনা করেন। ওই লেখায় রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অভিযানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো তদন্তের নির্দেশ দেননি এবং এ নিয়ে কোনো বিবৃতিও দেননি। তিনি দাবি করেন, সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বিরোধীদের দেওয়া প্রস্তাবও বারবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ ও পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশের হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন এবং নারীদেরও লাঠিপেটা করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের ওপরও লাঠিচার্জ করা হয়েছে। বিহারের সিওয়ানে শিক্ষার্থী বিক্ষোভে আগ্নেয়াস্ত্র, এমনকি একে-৪৭ ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন রাহুল গান্ধী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই বেআইনি ও অসাংবিধানিক সহিংসতার অনুমোদন কে দিয়েছিল?