মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘরে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ: সার্বজনীন করার দাবি জাতীয় ছাত্রশক্তির

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে একটি নির্দিষ্ট দলীয় ইতিহাসে পরিণত করার আশঙ্কা প্রকাশ করে এটিকে সার্বজনীন স্মৃতিশালায় রূপান্তরের দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে যে, জাদুঘরে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর উল্লেখযোগ্য কোনো স্মৃতি রাখা হয়নি এবং পূর্বে স্থান পাওয়া ভারত সীমান্তে হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্নগুলো বর্তমান বিএনপি সরকার ভারতকে খুশি করার উদ্দেশ্যে সরিয়ে ফেলেছে।

রোববার জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিগত ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার এক সার্বজনীন মহাজাগরণ। এই আন্দোলনের স্মৃতি রক্ষায় গঠিত জাদুঘরটি বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী আমলের নির্মম নির্যাতনের দলিল হওয়ার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সার্বজনীন স্মৃতি সংগ্রহশালা হওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমানে এটি একটি নির্দিষ্ট দলীয় ইতিহাসে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাদুঘরটি মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক ঘটনাগুলোকে তুলে ধরেছে, যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও স্মৃতি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত রয়ে গেছে। এছাড়া জেনজি (Gen-Z) প্রজন্মকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করা বিভিন্ন কর্মসূচির অভিনব নামকরণগুলোকেও এখানে স্থান দেওয়া হয়নি।

জাতীয় ছাত্রশক্তি জোর দিয়ে বলেছে, সার্বিকভাবে এই জাদুঘর জুলাইয়ের প্রকৃত ও গণ-ইতিহাসের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না। তারা অবিলম্বে এই জাদুঘরকে কোনো সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে, এটিকে বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদের আসল দলিল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস সম্বলিত একটি সার্বজনীন স্মৃতিশালা হিসেবে গড়ে তোলার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা শান্তি প্রস্তাব: ট্রাম্পের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান, হামাসের ‘বাস্তব বিলুপ্তি’ চায় নেতানিয়াহু

জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘরে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ: সার্বজনীন করার দাবি জাতীয় ছাত্রশক্তির

আপডেট সময় : ০৭:১৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে একটি নির্দিষ্ট দলীয় ইতিহাসে পরিণত করার আশঙ্কা প্রকাশ করে এটিকে সার্বজনীন স্মৃতিশালায় রূপান্তরের দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে যে, জাদুঘরে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর উল্লেখযোগ্য কোনো স্মৃতি রাখা হয়নি এবং পূর্বে স্থান পাওয়া ভারত সীমান্তে হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্নগুলো বর্তমান বিএনপি সরকার ভারতকে খুশি করার উদ্দেশ্যে সরিয়ে ফেলেছে।

রোববার জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিগত ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার এক সার্বজনীন মহাজাগরণ। এই আন্দোলনের স্মৃতি রক্ষায় গঠিত জাদুঘরটি বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী আমলের নির্মম নির্যাতনের দলিল হওয়ার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সার্বজনীন স্মৃতি সংগ্রহশালা হওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমানে এটি একটি নির্দিষ্ট দলীয় ইতিহাসে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাদুঘরটি মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক ঘটনাগুলোকে তুলে ধরেছে, যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও স্মৃতি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত রয়ে গেছে। এছাড়া জেনজি (Gen-Z) প্রজন্মকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করা বিভিন্ন কর্মসূচির অভিনব নামকরণগুলোকেও এখানে স্থান দেওয়া হয়নি।

জাতীয় ছাত্রশক্তি জোর দিয়ে বলেছে, সার্বিকভাবে এই জাদুঘর জুলাইয়ের প্রকৃত ও গণ-ইতিহাসের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না। তারা অবিলম্বে এই জাদুঘরকে কোনো সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে, এটিকে বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদের আসল দলিল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস সম্বলিত একটি সার্বজনীন স্মৃতিশালা হিসেবে গড়ে তোলার জোর দাবি জানানো হয়েছে।