ভারতের নয়াদিল্লি থেকে গত ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিতর্কিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ২৫ বছর বয়সী সাতক্ষীরার আবু ওবাইদাহ অরিনকে উপস্থাপক হিসেবে দেখা গেছে। সাতক্ষীরা জেলা শহরের মুনজিতপুর লিচুতলা এলাকার বাসিন্দা অরিনের এই অংশগ্রহণ ঢাকা-নয়াদিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি, একটি সাধারণ ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান কীভাবে শেখ হাসিনার এত কাছাকাছি পৌঁছালেন এবং এমন একটি উচ্চ-প্রোফাইল অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হলেন, তা নিয়ে সাতক্ষীরাজুড়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জন।
অরিন সাতক্ষীরা সদর থানার পাশে মুনজিতপুর লিচুতলা এলাকার জাহান প্রেসের মালিক আবু সোয়েব এবেলের বড় ছেলে। তিনি বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতে অবস্থান করছেন। অরিনের বাবা আবু সোয়েব এবেল জানিয়েছেন, তার ছেলে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তার জানা ছিল না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে তিনি ছেলেকে চিনতে পারেন। ছেলের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ হয় না জানিয়ে তিনি বলেন, অরিন সাধারণত তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
অরিনের মা জেবুন্নেছা খুশি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলেকে পড়াশোনা করার জন্যই দিল্লিতে পাঠিয়েছিলাম। সে অত্যন্ত মেধাবী। রাজনীতিতে না জড়ানোর জন্য তাকে বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু ৫ আগস্ট অনলাইনে তার ছবি দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই। ঘটনার পর তার সঙ্গে একবার কথা হলে আমার কান্নার শব্দ শুনে সে আমাকে শান্ত থাকতে বলে ফোন কেটে দেয়। ছেলেকে নিয়ে অন্যরকম স্বপ্ন ছিল, যা আজ ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। কীভাবে কী হলো, কিছুই বুঝতে পারছি না।’
এলাকার বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে গভীর কৌতূহল তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মুদি দোকানি শাহজাহান জানান, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে অরিনকে এলাকায় আর দেখা যায়নি। অপর এক প্রতিবেশী নয়াদিল্লির অনুষ্ঠানের ছবি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এ তো আমাদের অরিন! এত বড় নেতা হয়ে গেছে দেখছি, একেবারে সাবেক মন্ত্রীদের পাশে বসে পরিচালনা করছে!’ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির সঙ্গে অরিনের বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ছিল। তবে একটি সাধারণ পরিবারের তরুণ কীভাবে এত দ্রুত শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংস্পর্শে পৌঁছালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রিপোর্টারের নাম 



















