মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

জ্যেষ্ঠতা তালিকা পরিবর্তন: জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে স্বৈরাচারী সরকারের অনুগতদের পুনর্বাসনের অভিযোগ

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা (গ্রেডেশন) তালিকা তৈরি ও গেজেট প্রকাশ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের মতে, নিয়মমাফিক জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে তৈরি করা নতুন এই তালিকায় বিগত স্বৈরাচারী সরকারের অনুগত কয়েকজন কর্মকর্তাকে শীর্ষস্থানে পুনর্বাসন করা হয়েছে, যা যোগ্য ও বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক প্রণীত আগের সঠিক ও পরিমার্জিত গ্রেডেশন তালিকাকে উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় নতুন এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পদোন্নতিবঞ্চিত একাধিক কর্মকর্তার দাবি, নিয়ম লঙ্ঘন করে জ্যেষ্ঠদের পেছনে ফেলে জুনিয়রদের সামনে আনা হয়েছে এবং এর পেছনে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো ঘটনা ঘটেছে।

তথ্যানুসারে, অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত গ্রেডেশন তালিকায় আবদুল মুনিম তালিকার ১ নম্বরে ছিলেন, কিন্তু নতুন প্রকাশিত তালিকায় তার অবস্থান ২ নম্বরে। একইভাবে, আগের তালিকায় ৫ নম্বরে থাকা কর্মকর্তার অবস্থান এখন ১০ নম্বরে, ৬ নম্বরে থাকা কর্মকর্তার স্থান হয়েছে ১২তম, ৭ নম্বরে থাকা ব্যক্তি ১৩তম এবং ৮ নম্বরে থাকা কর্মকর্তার ঠাঁই হয়েছে ১৪তম অবস্থানে।

সংসদ সচিবালয়ের ‘স’, ‘ম’ এবং ‘নি’ আদ্যাক্ষরের কর্মকর্তা নাম-পরিচয় গোপন রেখে জানিয়েছেন, বর্তমান তালিকায় যিনি ১ নম্বরে উঠে এসেছেন, ড. ইউনূস সরকারের আমলে করা সমন্বিত জ্যেষ্ঠতার তালিকায় তার অবস্থান ছিল ১১তম। এই কর্মকর্তার রাহাত আরা ইমাম প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সংসদে যোগদান করেন। এই বিতর্কিত তালিকার ফলে সিনিয়র কর্মকর্তারাও জুনিয়রদের অধীনে চাকরি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।

তবে, এই বিতর্কিত তালিকা ও প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সচিবালয়ের মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীরা বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং এটিকে ‘সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া’ বলে দাবি করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনিক জ্যেষ্ঠতার তালিকায় কেবল জ্যেষ্ঠতাই একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান পরিবর্তন না আনলে চাপ অব্যাহত থাকবে: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

জ্যেষ্ঠতা তালিকা পরিবর্তন: জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে স্বৈরাচারী সরকারের অনুগতদের পুনর্বাসনের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা (গ্রেডেশন) তালিকা তৈরি ও গেজেট প্রকাশ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের মতে, নিয়মমাফিক জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে তৈরি করা নতুন এই তালিকায় বিগত স্বৈরাচারী সরকারের অনুগত কয়েকজন কর্মকর্তাকে শীর্ষস্থানে পুনর্বাসন করা হয়েছে, যা যোগ্য ও বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক প্রণীত আগের সঠিক ও পরিমার্জিত গ্রেডেশন তালিকাকে উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় নতুন এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পদোন্নতিবঞ্চিত একাধিক কর্মকর্তার দাবি, নিয়ম লঙ্ঘন করে জ্যেষ্ঠদের পেছনে ফেলে জুনিয়রদের সামনে আনা হয়েছে এবং এর পেছনে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো ঘটনা ঘটেছে।

তথ্যানুসারে, অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত গ্রেডেশন তালিকায় আবদুল মুনিম তালিকার ১ নম্বরে ছিলেন, কিন্তু নতুন প্রকাশিত তালিকায় তার অবস্থান ২ নম্বরে। একইভাবে, আগের তালিকায় ৫ নম্বরে থাকা কর্মকর্তার অবস্থান এখন ১০ নম্বরে, ৬ নম্বরে থাকা কর্মকর্তার স্থান হয়েছে ১২তম, ৭ নম্বরে থাকা ব্যক্তি ১৩তম এবং ৮ নম্বরে থাকা কর্মকর্তার ঠাঁই হয়েছে ১৪তম অবস্থানে।

সংসদ সচিবালয়ের ‘স’, ‘ম’ এবং ‘নি’ আদ্যাক্ষরের কর্মকর্তা নাম-পরিচয় গোপন রেখে জানিয়েছেন, বর্তমান তালিকায় যিনি ১ নম্বরে উঠে এসেছেন, ড. ইউনূস সরকারের আমলে করা সমন্বিত জ্যেষ্ঠতার তালিকায় তার অবস্থান ছিল ১১তম। এই কর্মকর্তার রাহাত আরা ইমাম প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সংসদে যোগদান করেন। এই বিতর্কিত তালিকার ফলে সিনিয়র কর্মকর্তারাও জুনিয়রদের অধীনে চাকরি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।

তবে, এই বিতর্কিত তালিকা ও প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সচিবালয়ের মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীরা বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং এটিকে ‘সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া’ বলে দাবি করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনিক জ্যেষ্ঠতার তালিকায় কেবল জ্যেষ্ঠতাই একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত।