সাতক্ষীরা-ভেটখালি আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় নির্মাণকাজ টেকসই হচ্ছে না, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। তবে ঠিকাদার কর্তৃপক্ষের দাবি, শিডিউল ঠিক রেখে পরীক্ষা করা সামগ্রী দিয়েই নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। এই ধীরগতির কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পাঁচ উপজেলার মানুষ।
সড়ক ও জনপদ (সওজ) সাতক্ষীরা সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা থেকে ভেটখালি পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কটির দৈর্ঘ্য ৬২ কিলোমিটার। মহাসড়কটি নির্মাণে মোট বরাদ্দ রয়েছে ৮২২ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে মহাসড়কটির নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে সরকারি আদেশ জারি হয়। চলতি বছরের জুন মাসে কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও, এখন পর্যন্ত মাত্র ৩১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মেয়াদ বাড়িয়ে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের জুন মাস। সাতক্ষীরা জজ কোর্টে আসা শ্যামনগরের আটুলিয়ার নুর ইসলাম বলেন, একবার এই সড়কে আসলে পরে আর আসতে চায় না। কোর্টের দিন থাকায় বাধ্য হয়ে এসেছি। বাসচালক অহিদুল ইসলাম বলেন, রাস্তা সংস্কারের জন্য একপাশ ভাঙা থাকায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।
এ বিষয়ে দেবহাটার পারুলিয়ার ওলিয়ার রহমান জানান, এই রাস্তাটা যেভাবে হওয়ার কথা ছিল, সে অনুযায়ী ঠিকাদাররা কাজ করছিল না। আমরা নজরদারি করে কাজের মান কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি, কিন্তু পুরোপুরি মানসম্মত কাজ হচ্ছে না। কালীগঞ্জের নলতা এলাকার কে এম সবুজ জানান, রাস্তার সাইড ওয়ালে যেভাবে পাইলিং হয়েছে, তা নিম্নমানের সামগ্রীর কারণে ধসে পড়েছে। স্থলবন্দর ভোমরার পাথর ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন জানান, সাতক্ষীরা-ভেটখালি রাস্তাটি নিম্নমানের ভটকা স্টোন দিয়ে নির্মিত হচ্ছে, যা বেশি দিন টিকবে না।
নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ মানতে নারাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমডি মাঈনুদ্দীন লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, নির্মাণসামগ্রীগুলো টেস্ট করে আনা হয়। সাইড ওয়াল সেট হওয়ার আগেই যদি মানুষ এর ওপর দিয়ে হাঁটাচলা করে, তাহলে এটা ভেঙে যেতে পারে। এমনটা হলে আমরা ঠিক করে দেই। সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘রাস্তাটি ৬২ কিলোমিটার, যেটি শহরের লাবনী মোড় থেকে শ্যামনগর হয়ে ভেটখালি পর্যন্ত। কাজের মেয়াদ ছিল ২ বছর ১১ মাস, অথচ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সময় নষ্ট হয়েছে ২ বছর। ১১ মাসে আমাদের কাজের অগ্রগতি শতকরা ৩২ ভাগ। কাজ ২০২৬ সালের জুনে শেষ করার কথা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মেয়াদ আরো বাড়ানো হতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 



















