গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য কেবল ভোট প্রদান বা সরকার গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মূল ভিত্তি প্রোথিত থাকে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ চর্চায়। একটি রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক হবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে সেই দেশের দলগুলো কীভাবে তাদের প্রার্থী নির্বাচন করছে। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ প্রতিনিধি বাছাই করলেও, সেই প্রতিনিধিত্বের সুযোগ কারা পাবেন—তা যদি স্বচ্ছ না হয়, তবে গণতন্ত্রের পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।
বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে দ্বিদলীয় ব্যবস্থার প্রাধান্য দেখা যায়, যেখানে জনগণের আস্থার ওপর ভিত্তি করে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে। বাংলাদেশেও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনেকটা একই রকম হলেও দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সাধারণ ভোটাররা সরাসরি প্রার্থী নির্বাচন করতে পারেন না; তারা কেবল দল মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেন। ফলে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় যদি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একক আধিপত্য বা অর্থনৈতিক প্রভাব কাজ করে, তবে তা জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়।
একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে প্রাতিষ্ঠানিক ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের চর্চা অপরিহার্য। যখন তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে যোগ্য ও সৎ প্রার্থী মনোনীত হবেন, তখনই সংসদে জনগণের প্রকৃত কণ্ঠস্বর ধ্বনিত হবে। তাই টেকসই গণতন্ত্রের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় আমূল সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
রিপোর্টারের নাম 

























