মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই বিপ্লব ও প্রগতিশীলতার নতুন বয়ান: নস্যাৎ হয়েছে হিন্দুত্ববাদী অপপ্রচার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৫:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বজুড়ে রাজনীতির চিরাচরিত প্রগতিশীল ও রক্ষণশীল বাইনারি ভেঙে এখন এক নতুন মধ্যপন্থি ধারার সূচনা করেছে জেন-জি বা বর্তমান তরুণ প্রজন্ম। বিশেষ করে আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা জায়নবাদীদের তৈরি করা তথাকথিত ‘লিবারেলিজম’ বা উদারতাবাদের মিথকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে জায়নবাদী গোষ্ঠীগুলো শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে ফিলিস্তিনিদের রক্ষণশীল হিসেবে উপস্থাপন করে আসছিল, যা তরুণদের এই আন্দোলনের মুখে এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

একই চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও। সেখানে হিন্দুত্ববাদী শক্তি নিজেদের প্রগতিশীল দাবি করে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে রক্ষণশীল হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। তবে ভারতের বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা সেই পুরনো ন্যারেটিভকে চ্যালেঞ্জ জানাতে শুরু করেছে। সোনম ওয়াংচুক, অরুন্ধতী রায় ও নাসিরুদ্দিন শাহর মতো মুক্তবুদ্ধির মানুষদের পাশাপাশি রবীশ কুমার ও ধ্রুব রাঠির মতো সংবাদকর্মী ও ইউটিউবাররা নতুন প্রজন্মের এই কণ্ঠস্বরকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ছিল এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। সে সময় ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক ও বিভাজনের রাজনীতি রুখে দিয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর থেকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ায় জুলাই বিপ্লবের অর্জনকে কালিমালিপ্ত করতে এবং এই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী তরুণদের ‘রক্ষণশীল’ হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত হিন্দুত্ববাদী দর্শনে বিশ্বাসী কিছু পক্ষ নিজেদের প্রগতিশীল দাবি করে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার যে অপকৌশল নিয়েছে, তা এদেশের সচেতন সমাজ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। বর্তমানে ২০২৬ সালে এসে নির্বাচিত সরকারের অধীনে বাংলাদেশ যখন নতুন পথে এগোচ্ছে, তখন সেই পুরনো ষড়যন্ত্রমূলক বয়ানগুলো আর ধোপে টিকছে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ: ঢাবির বিজয় একাত্তর হল থেকে শিবিরের সাবেক কর্মী বহিষ্কৃত

জুলাই বিপ্লব ও প্রগতিশীলতার নতুন বয়ান: নস্যাৎ হয়েছে হিন্দুত্ববাদী অপপ্রচার

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বজুড়ে রাজনীতির চিরাচরিত প্রগতিশীল ও রক্ষণশীল বাইনারি ভেঙে এখন এক নতুন মধ্যপন্থি ধারার সূচনা করেছে জেন-জি বা বর্তমান তরুণ প্রজন্ম। বিশেষ করে আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা জায়নবাদীদের তৈরি করা তথাকথিত ‘লিবারেলিজম’ বা উদারতাবাদের মিথকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে জায়নবাদী গোষ্ঠীগুলো শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে ফিলিস্তিনিদের রক্ষণশীল হিসেবে উপস্থাপন করে আসছিল, যা তরুণদের এই আন্দোলনের মুখে এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

একই চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও। সেখানে হিন্দুত্ববাদী শক্তি নিজেদের প্রগতিশীল দাবি করে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে রক্ষণশীল হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। তবে ভারতের বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা সেই পুরনো ন্যারেটিভকে চ্যালেঞ্জ জানাতে শুরু করেছে। সোনম ওয়াংচুক, অরুন্ধতী রায় ও নাসিরুদ্দিন শাহর মতো মুক্তবুদ্ধির মানুষদের পাশাপাশি রবীশ কুমার ও ধ্রুব রাঠির মতো সংবাদকর্মী ও ইউটিউবাররা নতুন প্রজন্মের এই কণ্ঠস্বরকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ছিল এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। সে সময় ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক ও বিভাজনের রাজনীতি রুখে দিয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর থেকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ায় জুলাই বিপ্লবের অর্জনকে কালিমালিপ্ত করতে এবং এই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী তরুণদের ‘রক্ষণশীল’ হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত হিন্দুত্ববাদী দর্শনে বিশ্বাসী কিছু পক্ষ নিজেদের প্রগতিশীল দাবি করে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার যে অপকৌশল নিয়েছে, তা এদেশের সচেতন সমাজ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। বর্তমানে ২০২৬ সালে এসে নির্বাচিত সরকারের অধীনে বাংলাদেশ যখন নতুন পথে এগোচ্ছে, তখন সেই পুরনো ষড়যন্ত্রমূলক বয়ানগুলো আর ধোপে টিকছে না।