মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০২:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

স্বৈরাচারী শাসনের পতন ও ইসলামের বিজয়: ৩৬ জুলাইয়ের তাৎপর্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

জুলুম কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয় না; জালিমকে আল্লাহ অবকাশ দিলেও ছেড়ে দেন না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর কারুন, ফেরাউন ও হামানকে (আমি ধ্বংস করেছি) তাদের কাছে মুসা গিয়েছিল প্রমাণাদিসহ। এরপরও তারা জমিনে অহংকার করেছিল, কিন্তু তারা (আমার আজাব) এড়াতে পারেনি। এদের প্রত্যেককেই তাদের অপরাধের কারণে আমি পাকড়াও করেছিলাম।’ (সুরা আনকাবুত : ৩৯-৪০)। এই আয়াতগুলো স্বৈরাশাসকদের শেষ পরিণতি সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়।

গণঅভ্যুত্থান এবং ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) সেই বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। শাসকের জুলুম যত বাড়ে, তার শাসনকাল ততই ফুরিয়ে আসে এবং ঘনিয়ে আসে লাঞ্ছিত হওয়ার সময়। হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ জালিমকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। অবশেষে তাকে এমনভাবে পাকড়াও করেন, সে আর ছুটে যেতে পারে না।’ (বুখারি : ৪৬৮৬)।

৩৬ জুলাই এমনি এমনি আসেনি। এর পেছনে রয়েছে হাজারো অন্যায়-অত্যাচার, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, মাজলুমের আত্মচিৎকার এবং ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ড। কোটা আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে শত শত হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলনের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে স্বৈরাচারী সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়।

৫ আগস্ট দেশের মানুষ শুধু রাজপথেই নামেনি, তারা সালাত, জিকির আর অশ্রুসিক্ত প্রার্থনায় আল্লাহর সাহায্য চেয়েছিল। অনেকে রোজা রেখে, সালাতুল হাজত আদায় করে ‘লংমার্চ টু ঢাকা’য় অংশ নিয়েছিল। স্বৈরাচার হাসিনার পতনের পর তাকবির ও সিজদার মাধ্যমে সবাই আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছিল। রাস্তায় রাস্তায় মুজিব-মূর্তি ভাঙা হয়েছিল ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনির মাধ্যমে, যা শিরক মূলোচ্ছেদ করার একটি ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস ছিল।

দেশের আইন প্রণয়নের কেন্দ্রবিন্দু জাতীয় সংসদে প্রবেশ করে ছাত্র-জনতা তাকবির, অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা আর সুরা নাসর তিলাওয়াতের মাধ্যমে এই বিজয় উদযাপন করেছিল। মাজলুমদের এই বিজয় পবিত্র কোরআনের সেই আয়াতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে আল্লাহতায়ালা নবীজিকে লক্ষ্য করে বলছেন, ‘বলুন, হে আল্লাহ, রা’ (আয়াতটি অসম্পূর্ণ)।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ: ঢাবির বিজয় একাত্তর হল থেকে শিবিরের সাবেক কর্মী বহিষ্কৃত

স্বৈরাচারী শাসনের পতন ও ইসলামের বিজয়: ৩৬ জুলাইয়ের তাৎপর্য

আপডেট সময় : ১১:২৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

জুলুম কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয় না; জালিমকে আল্লাহ অবকাশ দিলেও ছেড়ে দেন না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর কারুন, ফেরাউন ও হামানকে (আমি ধ্বংস করেছি) তাদের কাছে মুসা গিয়েছিল প্রমাণাদিসহ। এরপরও তারা জমিনে অহংকার করেছিল, কিন্তু তারা (আমার আজাব) এড়াতে পারেনি। এদের প্রত্যেককেই তাদের অপরাধের কারণে আমি পাকড়াও করেছিলাম।’ (সুরা আনকাবুত : ৩৯-৪০)। এই আয়াতগুলো স্বৈরাশাসকদের শেষ পরিণতি সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়।

গণঅভ্যুত্থান এবং ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) সেই বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। শাসকের জুলুম যত বাড়ে, তার শাসনকাল ততই ফুরিয়ে আসে এবং ঘনিয়ে আসে লাঞ্ছিত হওয়ার সময়। হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ জালিমকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। অবশেষে তাকে এমনভাবে পাকড়াও করেন, সে আর ছুটে যেতে পারে না।’ (বুখারি : ৪৬৮৬)।

৩৬ জুলাই এমনি এমনি আসেনি। এর পেছনে রয়েছে হাজারো অন্যায়-অত্যাচার, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, মাজলুমের আত্মচিৎকার এবং ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ড। কোটা আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে শত শত হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলনের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে স্বৈরাচারী সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়।

৫ আগস্ট দেশের মানুষ শুধু রাজপথেই নামেনি, তারা সালাত, জিকির আর অশ্রুসিক্ত প্রার্থনায় আল্লাহর সাহায্য চেয়েছিল। অনেকে রোজা রেখে, সালাতুল হাজত আদায় করে ‘লংমার্চ টু ঢাকা’য় অংশ নিয়েছিল। স্বৈরাচার হাসিনার পতনের পর তাকবির ও সিজদার মাধ্যমে সবাই আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছিল। রাস্তায় রাস্তায় মুজিব-মূর্তি ভাঙা হয়েছিল ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনির মাধ্যমে, যা শিরক মূলোচ্ছেদ করার একটি ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস ছিল।

দেশের আইন প্রণয়নের কেন্দ্রবিন্দু জাতীয় সংসদে প্রবেশ করে ছাত্র-জনতা তাকবির, অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা আর সুরা নাসর তিলাওয়াতের মাধ্যমে এই বিজয় উদযাপন করেছিল। মাজলুমদের এই বিজয় পবিত্র কোরআনের সেই আয়াতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে আল্লাহতায়ালা নবীজিকে লক্ষ্য করে বলছেন, ‘বলুন, হে আল্লাহ, রা’ (আয়াতটি অসম্পূর্ণ)।