মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য অস্ট্রেলিয়ার ২১৭ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২১৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে।

সোমবার বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহু সংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে এই অনুদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের অধীনে এই অনুদান ঘোষণা দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ইউএনএইচসিআর সোমবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক মানবিক সহায়তায় অর্থসংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও অস্ট্রেলিয়ার এই বহুবর্ষী ও নমনীয় অর্থায়ন রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য অত্যাবশ্যক সেবা অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই অর্থের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সুরক্ষা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা পরিচালনা করা হবে।

অস্ট্রেলিয়ান সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, অস্ট্রেলিয়া এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলো মোকাবিলায় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, যা এই অঞ্চলকে আরও নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সহনশীল করে তুলছে। তিনি মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে চান, তবে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান ছাড়া তা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি বলেন, প্রায় নয় বছর পর নতুন নতুন মানবিক সংকট সামনে আসায় রোহিঙ্গা সংকটটি বৈশ্বিক মনোযোগ থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে রোহিঙ্গাদের বিশ্ব ভুলে যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোটরযানে হুটার ও হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার নিয়ে কড়া সতর্কতা

রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য অস্ট্রেলিয়ার ২১৭ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৩:০০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২১৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে।

সোমবার বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহু সংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে এই অনুদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের অধীনে এই অনুদান ঘোষণা দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ইউএনএইচসিআর সোমবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক মানবিক সহায়তায় অর্থসংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও অস্ট্রেলিয়ার এই বহুবর্ষী ও নমনীয় অর্থায়ন রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য অত্যাবশ্যক সেবা অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই অর্থের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সুরক্ষা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা পরিচালনা করা হবে।

অস্ট্রেলিয়ান সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, অস্ট্রেলিয়া এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলো মোকাবিলায় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, যা এই অঞ্চলকে আরও নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সহনশীল করে তুলছে। তিনি মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে চান, তবে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান ছাড়া তা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি বলেন, প্রায় নয় বছর পর নতুন নতুন মানবিক সংকট সামনে আসায় রোহিঙ্গা সংকটটি বৈশ্বিক মনোযোগ থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে রোহিঙ্গাদের বিশ্ব ভুলে যায়নি।