মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের ঐতিহাসিক দরপতন: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের যৌথ হস্তক্ষেপ

ক্যালেন্ডারে ২০২৬ সাল হলেও, ফিরে দেখা যাক ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ঘটনা। ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মান বিগত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায়, তা ঠেকাতে সে সময়ে এক বিরল যৌথ পদক্ষেপ নিয়েছিল জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র।

জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় সে সময়ে এই দ্বিপক্ষীয় হস্তক্ষেপের কথা নিশ্চিত করেছিল। একই সঙ্গে ইয়েনের পতন রোধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর উদ্যোগ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছিল দুই দেশ। বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েন ও জাপানের সরকারি বন্ডের গণবিক্রি রোধ এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব ঠেকাতেই এই যৌথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ২০১১ সালে পূর্ব জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ইয়েনের মান কমানোর জন্য সর্বশেষ যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল; এরপর এই ঘটনা ছিল দুই দেশের মুদ্রাবাজারে একযোগে হস্তক্ষেপের প্রথম দৃষ্টান্ত।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে সহায়তা করতেই যুক্তরাষ্ট্র জাপানকে ইয়েনের মান পুনরুদ্ধারে সাহায্য করছে। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে সম্পাদিত এই যৌথ ইয়েন ক্রয় অভিযান অতিরিক্ত অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল।

সে সময়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা বলেছিলেন, ‘প্রয়োজনে আরও যৌথ হস্তক্ষেপ চালাতে আমরা দ্বিধা করব না।’ যৌথ হস্তক্ষেপের খবর প্রকাশের পর প্রতি ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মান ১ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। জাপানের শীর্ষ মুদ্রা বিষয়ক কূটনীতিক আতসুশি মিমুরা এটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যকার শক্তিশালী জোটের চূড়ান্ত রূপ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আদিয়ালা কারাগারে অসুস্থ ইমরান খান, স্বাস্থ্যগত কারণে পেতে পারেন রাজনৈতিক মুক্তি

ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের ঐতিহাসিক দরপতন: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের যৌথ হস্তক্ষেপ

আপডেট সময় : ০১:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ক্যালেন্ডারে ২০২৬ সাল হলেও, ফিরে দেখা যাক ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ঘটনা। ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মান বিগত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায়, তা ঠেকাতে সে সময়ে এক বিরল যৌথ পদক্ষেপ নিয়েছিল জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র।

জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় সে সময়ে এই দ্বিপক্ষীয় হস্তক্ষেপের কথা নিশ্চিত করেছিল। একই সঙ্গে ইয়েনের পতন রোধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর উদ্যোগ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছিল দুই দেশ। বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েন ও জাপানের সরকারি বন্ডের গণবিক্রি রোধ এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব ঠেকাতেই এই যৌথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ২০১১ সালে পূর্ব জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ইয়েনের মান কমানোর জন্য সর্বশেষ যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল; এরপর এই ঘটনা ছিল দুই দেশের মুদ্রাবাজারে একযোগে হস্তক্ষেপের প্রথম দৃষ্টান্ত।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে সহায়তা করতেই যুক্তরাষ্ট্র জাপানকে ইয়েনের মান পুনরুদ্ধারে সাহায্য করছে। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে সম্পাদিত এই যৌথ ইয়েন ক্রয় অভিযান অতিরিক্ত অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল।

সে সময়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা বলেছিলেন, ‘প্রয়োজনে আরও যৌথ হস্তক্ষেপ চালাতে আমরা দ্বিধা করব না।’ যৌথ হস্তক্ষেপের খবর প্রকাশের পর প্রতি ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মান ১ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। জাপানের শীর্ষ মুদ্রা বিষয়ক কূটনীতিক আতসুশি মিমুরা এটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যকার শক্তিশালী জোটের চূড়ান্ত রূপ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।