পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে স্বাস্থ্যগত কারণে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। তবে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় আপাতত তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র এবং ইমরান খানের পরিবারের পক্ষ থেকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানায়, দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেশটির অপূরণীয় ক্ষতি করেছে, তাই পাকিস্তানকে এগিয়ে নিতে হলে এই চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে হবে।
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তিন বছর ধরে বন্দি রয়েছেন। ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তবে দুর্নীতির কথা বলা হলেও মূলত শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ার কারণেই তাকে কারাবন্দি করা হয় বলে মনে করা হয়।
আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, কারাগার থেকে মুক্তির জন্য সাধারণত সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য কারণ দেখাতে হয়। সে ক্ষেত্রে ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে স্বাস্থ্যগত কারণে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। চলতি বছরের (২০২৬) শুরুতে তার চোখে একটি অস্ত্রোপচারও হয়েছিল।
গত কয়েক মাস ধরে ইমরান খানের সঙ্গে তার স্বজনদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। যোগাযোগ একেবারেই বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিবারের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এমনকি সম্প্রতি তিনি মারা গেছেন—এমন গুজবও ছড়িয়ে পড়েছিল।
ইমরান খানের দুই ছেলে সুলায়মান খান ও কাসিম খান এক বিবৃতিতে বলেন, এখন আর নীরব থাকার কোনো সুযোগ নেই। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের বাবা সাত মাসের বেশি সময় ধরে বাইরের বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘদিনের কারাবাসের ফলে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে বলে আমাদের আশঙ্কা। তার সঙ্গে নিয়মিত ও স্বাধীনভাবে যোগাযোগের সুযোগ থেকেও আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।”
ইমরান খানের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সাইয়েদ জুলফি বুখারিও বলেছেন, ইমরান খানের স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটছে এবং তার জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ চিকিৎসা প্রয়োজন। তাকে একাকী বন্দি করে রাখা হয়েছে, এমনকি তার বোন, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদেরও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
রিপোর্টারের নাম 





















