মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানে নিষেধাজ্ঞা জারি: পরিবেশ সুরক্ষায় ১৩ দফা নির্দেশনা

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল ধরনের হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, হাওরে চলাচলকারী সকল নৌযানকে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার (১ আগস্ট) জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। ‘টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৩ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনাগুলো অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাউসবোট নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না করলে বা প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান পরিচালনা করা যাবে না। আবেদন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সুনামগঞ্জের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হাওরের পরিবেশ রক্ষায় হাউসবোটে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক ব্যবহার এবং পার্টির আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহারও নিষিদ্ধ। প্রতিটি নৌযানে বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার, বাধ্যতামূলক সেপটিক ট্যাংক এবং অন্তত দুটি ডাস্টবিন রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই হাওর বা জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা যাবে না।

নৌযানের আকার নিয়েও নতুন নির্দেশনা এসেছে। হাউসবোটের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১০০ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি হাউসবোটে দৃশ্যমান স্থানে আচরণবিধি টানিয়ে রাখতে হবে এবং ভ্রমণ শুরুর আগেই তা পর্যটকদের জানাতে হবে। এ ছাড়া, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং হাসপাতালের জরুরি ফোন নম্বরও দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ট্যুরে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আদিয়ালা কারাগারে অসুস্থ ইমরান খান, স্বাস্থ্যগত কারণে পেতে পারেন রাজনৈতিক মুক্তি

টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানে নিষেধাজ্ঞা জারি: পরিবেশ সুরক্ষায় ১৩ দফা নির্দেশনা

আপডেট সময় : ১২:৪৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল ধরনের হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, হাওরে চলাচলকারী সকল নৌযানকে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার (১ আগস্ট) জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। ‘টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৩ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনাগুলো অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাউসবোট নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না করলে বা প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান পরিচালনা করা যাবে না। আবেদন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সুনামগঞ্জের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হাওরের পরিবেশ রক্ষায় হাউসবোটে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক ব্যবহার এবং পার্টির আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহারও নিষিদ্ধ। প্রতিটি নৌযানে বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার, বাধ্যতামূলক সেপটিক ট্যাংক এবং অন্তত দুটি ডাস্টবিন রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই হাওর বা জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা যাবে না।

নৌযানের আকার নিয়েও নতুন নির্দেশনা এসেছে। হাউসবোটের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১০০ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি হাউসবোটে দৃশ্যমান স্থানে আচরণবিধি টানিয়ে রাখতে হবে এবং ভ্রমণ শুরুর আগেই তা পর্যটকদের জানাতে হবে। এ ছাড়া, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং হাসপাতালের জরুরি ফোন নম্বরও দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ট্যুরে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।