মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

বগুড়ার শেরপুরে বন্যা ও নদীভাঙনে দিশেহারা জনজীবন, ঘরবাড়ি-ফসলি জমি বিলীন

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং অতিবৃষ্টির কারণে বগুড়ার শেরপুরে বাঙ্গালী ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর ভয়াল গ্রাসে কৃষকদের জমি, শতবর্ষী ভিটেমাটি এবং শেষ আশ্রয়টুকু কেড়ে নিচ্ছে। চোখের সামনেই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও আগামীর স্বপ্ন। সুঘাট এলাকার মাজেদা খাতুনের মতো অনেকেই গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, কখন নদী তাদের ঘরবাড়ি গ্রাস করে নেয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার বাঙ্গালী ও করতোয়া নদীর অন্তত ১৪টি পয়েন্টে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে বাঙ্গালী নদীর ভাঙনে খানপুর, সুঘাট ও খামারকান্দি ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, করতোয়া নদীর ভাঙন গাড়ীদহ ও মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাকে গ্রাস করছে।

বাঙ্গালী নদীর খানপুর ইউনিয়নের বড়ইতলী উত্তরপাড়ায় ২৪০ মিটার, চকখানপুর হাওয়ালদার হিন্দুপাড়া ও শ্মশান মন্দির সংলগ্ন ২০০ মিটার, এবং দহখানপুর পাড়ায় ১৫০ মিটার এলাকা ভাঙনের মুখে পড়েছে। সুঘাট ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজার সংলগ্ন বাম তীরে ৫০০ মিটার, মধ্যভাগ গ্রামে ১৫০ মিটার, বিনোদপুর সাহেববাড়ী সংলগ্ন ডান তীরে ৬০০ মিটার এবং সুঘাট ও সীমাবাড়ী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চকপাহাড়ী/ঘাসুরীয়া গ্রামে প্রায় ৬০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। খামারকান্দি ইউনিয়নের বিলনোথার গ্রামের বাম তীরে ৮০ মিটার এবং ঝাঝর উত্তরপাড়ায় ডান তীরে ২০০ মিটার এলাকাও তীব্র ভাঙনের শিকার।

করতোয়া নদীর ভাঙনে সুঘাট ইউনিয়নের বিনোদপুর মোহনা (মাওনা) এলাকায় প্রায় ১৫০ মিটার এবং বিনোদপুর উত্তরপাড়ায় ৬০ মিটার এলাকা ভাঙছে। গাড়ীদহ ইউনিয়নের কালশিমাটি স্কুল সংলগ্ন বাম তীরে ২০০ মিটার এবং ফুলবাড়ী ঘাটপার ব্রিজ ও মসজিদ সংলগ্ন ১৫০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। মির্জাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াবালা গ্রামের রাস্তা ও মাদ্রাসা সংলগ্ন ডান তীরে ২০০ মিটার এলাকাও আশঙ্কাজনকভাবে ভাঙছে।

ভিটেমাটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয় রক্ষায় নদীপাড়ের মানুষ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টাঙ্গুয়ার হাওরের ইসিএ জোনে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, জারি হলো জরুরি ১৩ নির্দেশনা

বগুড়ার শেরপুরে বন্যা ও নদীভাঙনে দিশেহারা জনজীবন, ঘরবাড়ি-ফসলি জমি বিলীন

আপডেট সময় : ১০:৩২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং অতিবৃষ্টির কারণে বগুড়ার শেরপুরে বাঙ্গালী ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর ভয়াল গ্রাসে কৃষকদের জমি, শতবর্ষী ভিটেমাটি এবং শেষ আশ্রয়টুকু কেড়ে নিচ্ছে। চোখের সামনেই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও আগামীর স্বপ্ন। সুঘাট এলাকার মাজেদা খাতুনের মতো অনেকেই গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, কখন নদী তাদের ঘরবাড়ি গ্রাস করে নেয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার বাঙ্গালী ও করতোয়া নদীর অন্তত ১৪টি পয়েন্টে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে বাঙ্গালী নদীর ভাঙনে খানপুর, সুঘাট ও খামারকান্দি ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, করতোয়া নদীর ভাঙন গাড়ীদহ ও মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাকে গ্রাস করছে।

বাঙ্গালী নদীর খানপুর ইউনিয়নের বড়ইতলী উত্তরপাড়ায় ২৪০ মিটার, চকখানপুর হাওয়ালদার হিন্দুপাড়া ও শ্মশান মন্দির সংলগ্ন ২০০ মিটার, এবং দহখানপুর পাড়ায় ১৫০ মিটার এলাকা ভাঙনের মুখে পড়েছে। সুঘাট ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজার সংলগ্ন বাম তীরে ৫০০ মিটার, মধ্যভাগ গ্রামে ১৫০ মিটার, বিনোদপুর সাহেববাড়ী সংলগ্ন ডান তীরে ৬০০ মিটার এবং সুঘাট ও সীমাবাড়ী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চকপাহাড়ী/ঘাসুরীয়া গ্রামে প্রায় ৬০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। খামারকান্দি ইউনিয়নের বিলনোথার গ্রামের বাম তীরে ৮০ মিটার এবং ঝাঝর উত্তরপাড়ায় ডান তীরে ২০০ মিটার এলাকাও তীব্র ভাঙনের শিকার।

করতোয়া নদীর ভাঙনে সুঘাট ইউনিয়নের বিনোদপুর মোহনা (মাওনা) এলাকায় প্রায় ১৫০ মিটার এবং বিনোদপুর উত্তরপাড়ায় ৬০ মিটার এলাকা ভাঙছে। গাড়ীদহ ইউনিয়নের কালশিমাটি স্কুল সংলগ্ন বাম তীরে ২০০ মিটার এবং ফুলবাড়ী ঘাটপার ব্রিজ ও মসজিদ সংলগ্ন ১৫০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। মির্জাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াবালা গ্রামের রাস্তা ও মাদ্রাসা সংলগ্ন ডান তীরে ২০০ মিটার এলাকাও আশঙ্কাজনকভাবে ভাঙছে।

ভিটেমাটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয় রক্ষায় নদীপাড়ের মানুষ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।