সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও হাওর সুরক্ষা বাস্তবায়ন ও পরীক্ষণ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ১৩ দফা জরুরি প্রশাসনিক নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়। পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করতে এবং সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের জারিকৃত ‘টাঙ্গুয়ার হাওর ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান নিশ্চিত করেছেন যে, পুরো হাওর নয়, কেবল প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন (ECA) হিসেবে চিহ্নিত নির্ধারিত এলাকায় কোনো ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল করতে পারবে না, তবে মাটিয়ান হাওর ও বৌলাই নদী হয়ে টেকেরঘাট রুটে চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না।
জারিকৃত ১৩ দফা দিকনির্দেশনার মধ্যে রয়েছে—
১. সব ধরনের হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের বাধ্যতামূলক প্রশাসনিক নিবন্ধন নিশ্চিতকরণ।
২. জেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়া হাওরে কোনো প্রকার নৌযান পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৩. পর্যটকবাহী হাউসবোটে উচ্চ স্বরে সাউন্ড সিস্টেমে গানবাজনা, মাইক ব্যবহার ও আলোক উজ্জ্বল পার্টির আয়োজন বন্ধ রাখা।
৪. পরিবেশ দূষণ রুখতে একবার ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল ইউজ) প্লাস্টিক সামগ্রী বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
৫. বোতলজাত পানির বিকল্প হিসেবে প্রতিটি নৌযানে বাধ্যতামূলক পানি বিশুদ্ধকারী ফিল্টার স্থাপন।
৬. হাউসবোটে সুনির্দিষ্ট সেপটিক ট্যাংক এবং বর্জ্য ফেলার জন্য অন্তত দুটি ডাস্টবিনের ব্যবস্থা রাখা।
৭. হাওরের পানি বা উন্মুক্ত জলাশয়ে কোনো প্রকার আবর্জনা বা প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
৮. যত্রতত্র বড় নৌযান ঠেকাতে হাউসবোটের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।
৯. পর্যাপ্ত পরিমাণের লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, ফায়ার এক্সটিংগুইশার ও গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
১০. প্রতিটি নৌযানে পর্যটকদের চলাচলের জন্য সুস্পষ্ট পরিবেশগত আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখা ও ট্যুর শুরুর পূর্বে তা অবহিত করা।
১১. জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালের জরুরি যোগাযোগ নম্বর বোটের দৃশ্যমান জায়গায় প্রদর্শন করা।
১২. ট্যুর পরিচালনা শেষে পর্যাপ্ত নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
১৩. চরম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, ঝড়, প্রবল বৃষ্টি বা বজ্রপাতের আশঙ্কায় যেকোনো পর্যটক পরিবহন তাৎক্ষণিক বন্ধ রাখা।
জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উল্লিখিত আদেশসমূহ অনতিবিলম্বে পুরো হাওর অঞ্চলে কার্যকর হবে। পাশাপাশি আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাউসবোটের নিবন্ধনের আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন জমা না দিলে বা বৈধ অনুমোদনহীন যেকোনো নৌযান হাওরে চলাচল করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 























