স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু তার ‘দ্য ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া’ গ্রন্থে মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধীকে (এম কে গান্ধী) নিয়ে এক পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন যে, ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে মানুষের প্রধান অনুভূতি ছিল ভয়। এক সর্বব্যাপী, দমনমূলক ও শ্বাসরুদ্ধকর ভয়। পুলিশের ভয়, আমলাতন্ত্রের ভয়, দমনমূলক আইন ও কারাগারের ভয়… আর তারপরই এলেন গান্ধী, যেন মানুষের কাঁধ থেকে ভয়ের সেই কালো চাদর বা ছায়া সরে গেল।
বর্তমান সময়ে, যদিও বিজেপি সরকারের শাসনকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সমতুল্য বলা যায় না, কারণ বিজেপি ভারতীয়দের ভোটে নির্বাচিত। তবুও, নির্বাচিত সরকারও ভিন্নমত দমন, ভিন্নমতাবলম্বীদের হুমকি, সর্বব্যাপী নজরদারি এবং যেকোনো মূল্যে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার মাধ্যমে ভয়ের এক ব্যাপক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। গত এক দশক বা তার কিছু বেশি সময় ধরে চলা বিজেপি শাসনেও এই বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ্য করা গেছে। বিজেপি তার নির্বাচনি জয়কে সমাজ এবং অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব বা আধিপত্য বিস্তারের বৈধতা হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে।
দিল্লির যন্তর মন্তর এবং ভারতের অন্যান্য স্থানে শিক্ষার্থীদের এবারের বিক্ষোভ সেই বিজেপি সরকারের তৈরি করা ‘ভয়ের কালো ছায়া’ বা চাদরটিকে সরিয়ে দিয়েছে। যদিও এই বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল শিক্ষা সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা নরেন্দ্র মোদি সরকারের কর্মপদ্ধতির বিরুদ্ধে এক তীব্র সমালোচনায় পরিণত হয়। শাসকরা এই হুমকির প্রকৃতি বুঝতে পেরে শুরুতেই তা দমন করতে বলপ্রয়োগ শুরু করেন। কিন্তু পুলিশের পেলেট গান কিংবা পেরেক-বসানো লাঠি শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে চুপ করাতে পারেনি। বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং তা জনস্রোতে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত দেশের যুবসমাজের ওপর আঘাত হানার মতো দুঃসাহস আর সরকারের হয়নি, সরকার নতিস্বীকার করল।
রিপোর্টারের নাম 




















