মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

শৈশবে কম চিনি গ্রহণে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমতে পারে: গবেষণা

জন্মের পর জীবনের প্রথম দুই বছরে চিনির গ্রহণ সীমিত রাখলে পরবর্তী জীবনে মস্তিষ্ক সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়তে পারে এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমতে পারে বলে একটি নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী নিউরোলজি-তে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, যারা শৈশবে তুলনামূলক কম চিনি গ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ২৩ শতাংশ কম ছিল।

হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকরা এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। তারা ১৯৫৩ সালে যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী চিনি রেশন ব্যবস্থা প্রত্যাহারের ঘটনাকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেন। এই সময়ে দৈনিক গড় চিনির ব্যবহার প্রায় ৪১ গ্রাম থেকে বেড়ে ৮০ গ্রামে পৌঁছায়, যা শৈশবে ভিন্ন মাত্রার চিনি গ্রহণকারী মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত প্রভাব তুলনা করার সুযোগ তৈরি করে।

গবেষণায় ইউকে বায়োব্যাঙ্কের প্রায় ৬৫ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, যারা জীবনের প্রথম দুই বছর রেশন চলাকালে কাটিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম ছিল। এছাড়া যাদের ডিমেনশিয়া হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রোগের লক্ষণ গড়ে প্রায় আড়াই বছর পরে প্রকাশ পেয়েছে।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ফলাফল থেকে সরাসরি কারণ-প্রভাব সম্পর্ক নিশ্চিত করা যায় না। গবেষণার প্রধান গবেষক জিয়াক্সিন ঝেং জানান, শৈশবে কম চিনি গ্রহণের ইতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে, তবে একমাত্র চিনিই এ ফলাফলের জন্য দায়ী কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, গর্ভকাল থেকে শিশুর দ্বিতীয় জন্মদিন পর্যন্ত সময় (জীবনের প্রথম এক হাজার দিন) মস্তিষ্ক ও শরীরের বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্পের ওপর মার্কিন জনআস্থার বড় ধস

শৈশবে কম চিনি গ্রহণে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমতে পারে: গবেষণা

আপডেট সময় : ১০:২৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

জন্মের পর জীবনের প্রথম দুই বছরে চিনির গ্রহণ সীমিত রাখলে পরবর্তী জীবনে মস্তিষ্ক সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়তে পারে এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমতে পারে বলে একটি নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী নিউরোলজি-তে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, যারা শৈশবে তুলনামূলক কম চিনি গ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ২৩ শতাংশ কম ছিল।

হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকরা এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। তারা ১৯৫৩ সালে যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী চিনি রেশন ব্যবস্থা প্রত্যাহারের ঘটনাকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেন। এই সময়ে দৈনিক গড় চিনির ব্যবহার প্রায় ৪১ গ্রাম থেকে বেড়ে ৮০ গ্রামে পৌঁছায়, যা শৈশবে ভিন্ন মাত্রার চিনি গ্রহণকারী মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত প্রভাব তুলনা করার সুযোগ তৈরি করে।

গবেষণায় ইউকে বায়োব্যাঙ্কের প্রায় ৬৫ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, যারা জীবনের প্রথম দুই বছর রেশন চলাকালে কাটিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম ছিল। এছাড়া যাদের ডিমেনশিয়া হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রোগের লক্ষণ গড়ে প্রায় আড়াই বছর পরে প্রকাশ পেয়েছে।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ফলাফল থেকে সরাসরি কারণ-প্রভাব সম্পর্ক নিশ্চিত করা যায় না। গবেষণার প্রধান গবেষক জিয়াক্সিন ঝেং জানান, শৈশবে কম চিনি গ্রহণের ইতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে, তবে একমাত্র চিনিই এ ফলাফলের জন্য দায়ী কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, গর্ভকাল থেকে শিশুর দ্বিতীয় জন্মদিন পর্যন্ত সময় (জীবনের প্রথম এক হাজার দিন) মস্তিষ্ক ও শরীরের বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।