মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

মৃগী নদীর পাশে পৌর বর্জ্য ফেলা অব্যাহত: স্বাস্থ্য ও পরিবেশের চরম ঝুঁকি

শেরপুরে আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল থাকা সত্ত্বেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় শহরের বর্জ্য মৃগী নদীর পাশে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীদূষণ এবং হাজার হাজার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। উন্মুক্ত স্থানে প্লাস্টিক, পলিথিন, আবাসিক ও হাসপাতালের বর্জ্য ফেলে নদী ও পরিবেশ দূষণে পৌর কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিকেই দায়ী করছেন অনেকে।

শেরপুর পৌরসভার নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২২ সালে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকায় তিন একর জমি অধিগ্রহণ এবং সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের অষ্টমীতলায় একটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পৌর এলাকার আবর্জনা সেখানে না ফেলে শহরের মীরগঞ্জ এলাকার মৃগী নদীর পাশের জমিতে ফেলা হচ্ছে।

শেরপুর পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, শহরের ৯টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় ৩০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে ১৫ টন বর্জ্য অষ্টমীতলার নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশনে ফেলা হলেও, স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাকি ১৫ টন বর্জ্য মৃগী নদীর পাশের জমিতে ফেলা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই বর্জ্য ফেলার কারণে মৃগী নদীর পানি কালো হয়ে যাচ্ছে। বর্জ্যের দুর্গন্ধ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা কবির মিয়া জানান, দুর্গন্ধের কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে বর্জ্যের একটি অংশ নদীতে মিশে দূষণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।

শেরপুর পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিন বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের মতো প্রকল্প বড় আকারে গ্রহণ করা গেলে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। এর জন্য সরকারি সহযোগিতার প্রয়োজন।

শেরপুর পৌরসভার প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা সাংবাদিকদের জানান, তারা মৃগী নদীর পাশের জমিতে অস্থায়ী ভিত্তিতে বর্জ্য ফেলছেন। নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য খাসজমি খোঁজা হচ্ছে এবং উপযুক্ত জমি পাওয়া গেলে মীরগঞ্জ ডাম্পিং গ্রাউন্ড বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্পের ওপর মার্কিন জনআস্থার বড় ধস

মৃগী নদীর পাশে পৌর বর্জ্য ফেলা অব্যাহত: স্বাস্থ্য ও পরিবেশের চরম ঝুঁকি

আপডেট সময় : ১০:২৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

শেরপুরে আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল থাকা সত্ত্বেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় শহরের বর্জ্য মৃগী নদীর পাশে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীদূষণ এবং হাজার হাজার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। উন্মুক্ত স্থানে প্লাস্টিক, পলিথিন, আবাসিক ও হাসপাতালের বর্জ্য ফেলে নদী ও পরিবেশ দূষণে পৌর কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিকেই দায়ী করছেন অনেকে।

শেরপুর পৌরসভার নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২২ সালে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকায় তিন একর জমি অধিগ্রহণ এবং সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের অষ্টমীতলায় একটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পৌর এলাকার আবর্জনা সেখানে না ফেলে শহরের মীরগঞ্জ এলাকার মৃগী নদীর পাশের জমিতে ফেলা হচ্ছে।

শেরপুর পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, শহরের ৯টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় ৩০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে ১৫ টন বর্জ্য অষ্টমীতলার নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশনে ফেলা হলেও, স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাকি ১৫ টন বর্জ্য মৃগী নদীর পাশের জমিতে ফেলা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই বর্জ্য ফেলার কারণে মৃগী নদীর পানি কালো হয়ে যাচ্ছে। বর্জ্যের দুর্গন্ধ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা কবির মিয়া জানান, দুর্গন্ধের কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে বর্জ্যের একটি অংশ নদীতে মিশে দূষণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।

শেরপুর পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিন বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের মতো প্রকল্প বড় আকারে গ্রহণ করা গেলে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। এর জন্য সরকারি সহযোগিতার প্রয়োজন।

শেরপুর পৌরসভার প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা সাংবাদিকদের জানান, তারা মৃগী নদীর পাশের জমিতে অস্থায়ী ভিত্তিতে বর্জ্য ফেলছেন। নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য খাসজমি খোঁজা হচ্ছে এবং উপযুক্ত জমি পাওয়া গেলে মীরগঞ্জ ডাম্পিং গ্রাউন্ড বন্ধ করে দেওয়া হবে।