মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার জাভা উপকূলে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুন, নিহত ৫, নিখোঁজ ৪১

ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভার উপকূলে যাত্রী ও নাবিকসহ ২৭১ আরোহী বহনকারী একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৪১ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ইতোমধ্যে ২২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার সকালে মুতিয়ারা সেন্টোসা-২ নামের ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া শহর থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসারের উদ্দেশে যাত্রা করছিল। ফেরিটিতে ২৩২ জন যাত্রী এবং ৩৯ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। স্থানীয় সময় ভোর ৬টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে সুমেনেপ অঞ্চলের জলসীমায় আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা (বাসারনাস)।

বাসারনাসের তথ্য অনুযায়ী, ফেরি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পিটি অ্যাটোসিম লামপুং পেলায়ারান ঘটনাটি প্রায় এক ঘণ্টা পর সুরাবায়া উদ্ধার কার্যালয়কে জানায়। কোম্পানিটি জানায়, ফেরির ক্যাপ্টেন মাদুরা দ্বীপের উত্তর প্রান্তের কাছে জাহাজে আগুন লাগার খবর দিলেও পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

উদ্ধার সংস্থার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ফেরির এক পাশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হয়ে পুরো জাহাজে ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে আতঙ্কিত যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরে ফেরির ডেক ও ওপরের অংশে জড়ো হয়ে উদ্ধারকর্মীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। আগুন ও ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অনেক যাত্রী জীবন বাঁচাতে সমুদ্রে ঝাঁপ দেন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুনে ফেরিটির বেশিরভাগ অংশ গ্রাস করে ফেলে। পরে একটি টাগবোট ও আশপাশে থাকা আরেকটি জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করে। রোববার বিকেল পর্যন্ত ২২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার এবং পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অন্তত ৪১ জনের এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি।

উদ্ধার অভিযানে সুরাবায়া থেকে একটি উদ্ধার জাহাজ পাঠানো হয়েছে, যদিও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সুমেনেপ উদ্ধার পোস্ট থেকে পাঠানো একটি দ্রুতগতির নৌযান বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে ফিরে আসে। এছাড়া উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী।

প্রায় ১৬০ মিটার দীর্ঘ ও ২৫ মিটার প্রশস্ত এই ফেরিটি নিয়মিত সুরাবায়া-মাকাসার রুটে চলাচল করে। প্রায় ৪০ ঘণ্টার এ যাত্রাপথ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের

ইন্দোনেশিয়ার জাভা উপকূলে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুন, নিহত ৫, নিখোঁজ ৪১

আপডেট সময় : ০৮:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভার উপকূলে যাত্রী ও নাবিকসহ ২৭১ আরোহী বহনকারী একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৪১ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ইতোমধ্যে ২২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার সকালে মুতিয়ারা সেন্টোসা-২ নামের ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া শহর থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসারের উদ্দেশে যাত্রা করছিল। ফেরিটিতে ২৩২ জন যাত্রী এবং ৩৯ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। স্থানীয় সময় ভোর ৬টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে সুমেনেপ অঞ্চলের জলসীমায় আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা (বাসারনাস)।

বাসারনাসের তথ্য অনুযায়ী, ফেরি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পিটি অ্যাটোসিম লামপুং পেলায়ারান ঘটনাটি প্রায় এক ঘণ্টা পর সুরাবায়া উদ্ধার কার্যালয়কে জানায়। কোম্পানিটি জানায়, ফেরির ক্যাপ্টেন মাদুরা দ্বীপের উত্তর প্রান্তের কাছে জাহাজে আগুন লাগার খবর দিলেও পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

উদ্ধার সংস্থার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ফেরির এক পাশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হয়ে পুরো জাহাজে ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে আতঙ্কিত যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরে ফেরির ডেক ও ওপরের অংশে জড়ো হয়ে উদ্ধারকর্মীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। আগুন ও ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অনেক যাত্রী জীবন বাঁচাতে সমুদ্রে ঝাঁপ দেন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুনে ফেরিটির বেশিরভাগ অংশ গ্রাস করে ফেলে। পরে একটি টাগবোট ও আশপাশে থাকা আরেকটি জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করে। রোববার বিকেল পর্যন্ত ২২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার এবং পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অন্তত ৪১ জনের এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি।

উদ্ধার অভিযানে সুরাবায়া থেকে একটি উদ্ধার জাহাজ পাঠানো হয়েছে, যদিও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সুমেনেপ উদ্ধার পোস্ট থেকে পাঠানো একটি দ্রুতগতির নৌযান বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে ফিরে আসে। এছাড়া উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী।

প্রায় ১৬০ মিটার দীর্ঘ ও ২৫ মিটার প্রশস্ত এই ফেরিটি নিয়মিত সুরাবায়া-মাকাসার রুটে চলাচল করে। প্রায় ৪০ ঘণ্টার এ যাত্রাপথ।