মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘ক্ষমা’ মন্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করেছি’ মন্তব্যকে ঘিরে দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি মোদির এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের মতো ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষমা নয়, বরং তাদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত। তিনি আরও বলেছিলেন, শিক্ষার্থীদের ক্ষমার কোনো প্রয়োজন নেই।

শুক্রবার রাতে প্রকাশিত এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে মোদি দাবি করেছিলেন, আন্দোলনের সময় তাকে ও তার মাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হলেও তিনি শিক্ষার্থীদের ‘ক্ষমা’ করেছেন। তিনি এও বলেছিলেন যে, তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করার সময় এখন।

জবাবে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন, বিগত সরকার একটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ পরীক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, যার কারণে বহু শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বা শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা করেননি।

কংগ্রেস নেতা পি. চিদাম্বরম প্রশ্ন তুলেছিলেন, সরকারবিরোধী পোস্টে অশালীন মন্তব্য করা বিজেপি সমর্থকদেরও কি প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা করেছেন? পবন খেরা মন্তব্য করেছিলেন, “দেশবাসী যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রত্যাশা করছিল, সেখানে তিনি উল্টো দেশবাসীকেই ক্ষমা করে দিয়েছেন।” সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব দাবি করেছিলেন, জনগণ বিজেপিকে ক্ষমা করবে না। শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা উদ্ধব ঠাকরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারে আইন সংশোধন ও টাস্কফোর্স গঠনসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংসদে তথ্যভিত্তিক আলোচনায় সরকার অংশ নিয়েছিল। বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নকভি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সংবেদনশীলতার বিপরীতে বিরোধীদের আচরণে হতাশা প্রকাশ পেয়েছিল।

এরই মধ্যে, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রীকে আপত্তিকর ভাষায় মন্তব্য করা ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী ক্ষমা চেয়ে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছিল। সে দাবি করেছিল, অন্যের প্রভাবে এমন মন্তব্য করেছিল এবং এটি তার প্রথম ও শেষ ভুল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচল ও নদী সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘ক্ষমা’ মন্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৪:০৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করেছি’ মন্তব্যকে ঘিরে দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি মোদির এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের মতো ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষমা নয়, বরং তাদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত। তিনি আরও বলেছিলেন, শিক্ষার্থীদের ক্ষমার কোনো প্রয়োজন নেই।

শুক্রবার রাতে প্রকাশিত এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে মোদি দাবি করেছিলেন, আন্দোলনের সময় তাকে ও তার মাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হলেও তিনি শিক্ষার্থীদের ‘ক্ষমা’ করেছেন। তিনি এও বলেছিলেন যে, তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করার সময় এখন।

জবাবে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন, বিগত সরকার একটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ পরীক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, যার কারণে বহু শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বা শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা করেননি।

কংগ্রেস নেতা পি. চিদাম্বরম প্রশ্ন তুলেছিলেন, সরকারবিরোধী পোস্টে অশালীন মন্তব্য করা বিজেপি সমর্থকদেরও কি প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা করেছেন? পবন খেরা মন্তব্য করেছিলেন, “দেশবাসী যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রত্যাশা করছিল, সেখানে তিনি উল্টো দেশবাসীকেই ক্ষমা করে দিয়েছেন।” সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব দাবি করেছিলেন, জনগণ বিজেপিকে ক্ষমা করবে না। শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা উদ্ধব ঠাকরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারে আইন সংশোধন ও টাস্কফোর্স গঠনসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংসদে তথ্যভিত্তিক আলোচনায় সরকার অংশ নিয়েছিল। বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নকভি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সংবেদনশীলতার বিপরীতে বিরোধীদের আচরণে হতাশা প্রকাশ পেয়েছিল।

এরই মধ্যে, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রীকে আপত্তিকর ভাষায় মন্তব্য করা ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী ক্ষমা চেয়ে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছিল। সে দাবি করেছিল, অন্যের প্রভাবে এমন মন্তব্য করেছিল এবং এটি তার প্রথম ও শেষ ভুল।