মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

অভিবাসী ঢল সামলাতে সেউতা সীমান্তে ভাসমান প্রতিবন্ধক বসাচ্ছে স্পেন

মরক্কো সীমান্তঘেঁষা স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় সাম্প্রতিক অভিবাসী ঢল সামলাতে দেশটির সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এই লক্ষ্যে মরক্কো-সেউতা উপকূলে প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি ভাসমান প্রতিবন্ধক স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্ফীতযোগ্য এই ভাসমান প্রতিবন্ধক পানির নিচে প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এর পাশাপাশি সীমান্ত নজরদারি আরও শক্তিশালী করার জন্য নৌবাহিনীর নোঙর করা বয়ার একটি অতিরিক্ত সারিও স্থাপন করা হবে।

সাম্প্রতিক অভিবাসী প্রবাহের পর অধিকাংশ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ইতোমধ্যে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে যারা এখনো সেউতায় অবস্থান করছেন, তাদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানায়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করেন। এর মধ্যে প্রায় ৪৮ হাজার ৩০০ জনকে শুক্রবার বিকেলের মধ্যেই মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়। এছাড়া আরও কয়েক শ অভিবাসী স্বেচ্ছায় সেউতা ত্যাগ করেন।

সেউতায় নিযুক্ত স্পেন সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে শহরটিতে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০টির বেশি সদস্যদেশ ইউরোপীয় কমিশনের কাছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ কমিশনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তাঁর সরকারের অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেছেন।

এদিকে, সেউতার বিভিন্ন সৈকতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের শত শত অভিবাসীকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। তাঁদের অনেকেই দাবি করেছেন যে, তাঁরা মরক্কোর নাগরিক নন, তাই তাঁদের সেখানে ফেরত পাঠানো উচিত নয়। কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, বৃহস্পতিবারের পর থেকে তাঁরা কোনো খাবার পাননি। সুদান থেকে পালিয়ে আসা ২৪ বছর বয়সী অভিবাসী কামাল ওমর জানান, ২০২৩ সালে গৃহযুদ্ধের কারণে তিনি নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। গত বছর মরক্কোতে পৌঁছানোর পর এবার সেউতায় এসেছেন। তাঁর ভাষায়, “আমি মরক্কোতে ফিরতে চাই না। আমাদের সুরক্ষা দিন।”

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, সমুদ্রে ভাসমান বয়া বসিয়ে সীমান্তে একটি দৃশ্যমান প্রতিবন্ধক তৈরি করা হবে। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ের ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচল ও নদী সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ

অভিবাসী ঢল সামলাতে সেউতা সীমান্তে ভাসমান প্রতিবন্ধক বসাচ্ছে স্পেন

আপডেট সময় : ০৪:০৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

মরক্কো সীমান্তঘেঁষা স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় সাম্প্রতিক অভিবাসী ঢল সামলাতে দেশটির সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এই লক্ষ্যে মরক্কো-সেউতা উপকূলে প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি ভাসমান প্রতিবন্ধক স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্ফীতযোগ্য এই ভাসমান প্রতিবন্ধক পানির নিচে প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এর পাশাপাশি সীমান্ত নজরদারি আরও শক্তিশালী করার জন্য নৌবাহিনীর নোঙর করা বয়ার একটি অতিরিক্ত সারিও স্থাপন করা হবে।

সাম্প্রতিক অভিবাসী প্রবাহের পর অধিকাংশ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ইতোমধ্যে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে যারা এখনো সেউতায় অবস্থান করছেন, তাদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানায়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করেন। এর মধ্যে প্রায় ৪৮ হাজার ৩০০ জনকে শুক্রবার বিকেলের মধ্যেই মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়। এছাড়া আরও কয়েক শ অভিবাসী স্বেচ্ছায় সেউতা ত্যাগ করেন।

সেউতায় নিযুক্ত স্পেন সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে শহরটিতে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০টির বেশি সদস্যদেশ ইউরোপীয় কমিশনের কাছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ কমিশনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তাঁর সরকারের অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেছেন।

এদিকে, সেউতার বিভিন্ন সৈকতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের শত শত অভিবাসীকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। তাঁদের অনেকেই দাবি করেছেন যে, তাঁরা মরক্কোর নাগরিক নন, তাই তাঁদের সেখানে ফেরত পাঠানো উচিত নয়। কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, বৃহস্পতিবারের পর থেকে তাঁরা কোনো খাবার পাননি। সুদান থেকে পালিয়ে আসা ২৪ বছর বয়সী অভিবাসী কামাল ওমর জানান, ২০২৩ সালে গৃহযুদ্ধের কারণে তিনি নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। গত বছর মরক্কোতে পৌঁছানোর পর এবার সেউতায় এসেছেন। তাঁর ভাষায়, “আমি মরক্কোতে ফিরতে চাই না। আমাদের সুরক্ষা দিন।”

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, সমুদ্রে ভাসমান বয়া বসিয়ে সীমান্তে একটি দৃশ্যমান প্রতিবন্ধক তৈরি করা হবে। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ের ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়েছে।