মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

সীমান্তবিরোধ: নেপালের মুদ্রায় বহাল বিতর্কিত মানচিত্র, দিল্লির কূটনৈতিক ধাক্কা

ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘বৃহত্তর নেপাল’ মানচিত্র নতুন এক রুপির মুদ্রা থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে নেপাল সরকার। বিরোধী দল ও জনমতের প্রবল চাপের মুখে বৃহত্তর নেপালের মানচিত্র বহাল রাখার এই সিদ্ধান্ত নয়াদিল্লির কূটনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংক (এনআরবি) শনিবার জানিয়েছে, নতুন এক রুপির মুদ্রা বাজারে ছাড়া হবে। তবে মুদ্রার আকার ও ধাতব উপাদানে পরিবর্তন এলেও তাতে আগের মতোই থাকবে বৃহত্তর নেপালের রাজনৈতিক মানচিত্র, যেখানে ভারতের দাবি করা লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি অঞ্চলকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এনআরবির মুখপাত্র গুরু প্রসাদ পাউডেল নিশ্চিত করেছেন, নতুন নকশা আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে না এলেও আগের মানচিত্রই বহাল থাকবে।

ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধের মূল কেন্দ্র উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলার কাছে ভারত-নেপাল-চীনের ট্রাই-জংশন সংলগ্ন প্রায় ৩৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা। লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি—এই তিনটি অঞ্চল নিয়েই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ। ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির ভিন্ন ব্যাখ্যাই এই বিরোধের মূল উৎস। নেপালের দাবি, মহাকালী (কালী) নদীর উৎপত্তি লিম্পিয়াধুরা থেকে হওয়ায় ওই তিনটি এলাকা তাদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ভারতের দাবি, নদীর উৎপত্তি কালাপানির কাছের একটি ঝরনা থেকে, ফলে তিনটি এলাকাই ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের অংশ।

২০২০ সালের মে মাসে ভারত ধারচুলা থেকে লিপুলেখ পাস পর্যন্ত কৌশলগত সড়ক উদ্বোধন করলে এই বিরোধ নতুন করে তীব্র হয়। সেসময় নেপাল অভিযোগ তোলে যে, কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি তাদের দাবিকৃত ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে নির্মিত হয়েছে। এরপর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সরকার সংশোধিত রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরাকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়। সেই মানচিত্র পরবর্তীতে সংবিধানসম্মত স্বীকৃতি পায় এবং সরকারি নথি ও প্রচলিত মুদ্রাতেও স্থান পায়। ভারত অবশ্য শুরু থেকেই এই মানচিত্রের বিরোধিতা করে আসছে।

২০২৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্ষমতায় আসা র‍্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ-এর নেতৃত্বাধীন নেপাল সরকার এই ইস্যুতে তাদের পূর্বের অবস্থান ধরে রেখেছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ’: উদ্ভাবক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের

সীমান্তবিরোধ: নেপালের মুদ্রায় বহাল বিতর্কিত মানচিত্র, দিল্লির কূটনৈতিক ধাক্কা

আপডেট সময় : ০৬:২০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘বৃহত্তর নেপাল’ মানচিত্র নতুন এক রুপির মুদ্রা থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে নেপাল সরকার। বিরোধী দল ও জনমতের প্রবল চাপের মুখে বৃহত্তর নেপালের মানচিত্র বহাল রাখার এই সিদ্ধান্ত নয়াদিল্লির কূটনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংক (এনআরবি) শনিবার জানিয়েছে, নতুন এক রুপির মুদ্রা বাজারে ছাড়া হবে। তবে মুদ্রার আকার ও ধাতব উপাদানে পরিবর্তন এলেও তাতে আগের মতোই থাকবে বৃহত্তর নেপালের রাজনৈতিক মানচিত্র, যেখানে ভারতের দাবি করা লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি অঞ্চলকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এনআরবির মুখপাত্র গুরু প্রসাদ পাউডেল নিশ্চিত করেছেন, নতুন নকশা আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে না এলেও আগের মানচিত্রই বহাল থাকবে।

ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধের মূল কেন্দ্র উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলার কাছে ভারত-নেপাল-চীনের ট্রাই-জংশন সংলগ্ন প্রায় ৩৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা। লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি—এই তিনটি অঞ্চল নিয়েই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ। ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির ভিন্ন ব্যাখ্যাই এই বিরোধের মূল উৎস। নেপালের দাবি, মহাকালী (কালী) নদীর উৎপত্তি লিম্পিয়াধুরা থেকে হওয়ায় ওই তিনটি এলাকা তাদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ভারতের দাবি, নদীর উৎপত্তি কালাপানির কাছের একটি ঝরনা থেকে, ফলে তিনটি এলাকাই ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের অংশ।

২০২০ সালের মে মাসে ভারত ধারচুলা থেকে লিপুলেখ পাস পর্যন্ত কৌশলগত সড়ক উদ্বোধন করলে এই বিরোধ নতুন করে তীব্র হয়। সেসময় নেপাল অভিযোগ তোলে যে, কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি তাদের দাবিকৃত ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে নির্মিত হয়েছে। এরপর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সরকার সংশোধিত রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরাকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়। সেই মানচিত্র পরবর্তীতে সংবিধানসম্মত স্বীকৃতি পায় এবং সরকারি নথি ও প্রচলিত মুদ্রাতেও স্থান পায়। ভারত অবশ্য শুরু থেকেই এই মানচিত্রের বিরোধিতা করে আসছে।

২০২৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্ষমতায় আসা র‍্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ-এর নেতৃত্বাধীন নেপাল সরকার এই ইস্যুতে তাদের পূর্বের অবস্থান ধরে রেখেছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।