ঢাকা ০১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

রোগ নির্ণয় পরীক্ষায় ১২ গুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়: চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য খাতে চরম বৈষম্য

চট্টগ্রামে রোগ নির্ণয়ের বিভিন্ন পরীক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চরম মূল্য বৈষম্য দেখা দিয়েছে। একই ধরনের পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালে স্বল্প খরচে করা গেলেও বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোয় রোগীদের দুই থেকে ১২ গুণ পর্যন্ত বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে দুর্বল তদারকি, রেফারেল বাণিজ্য, অস্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ এবং দৃশ্যমান মূল্যতালিকার অভাবে সাধারণ রোগীরা প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা বইতে বাধ্য হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বল্প খরচে সেবা পাওয়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা, চিকিৎসক ও মধ্যস্বত্বভোগীর যোগসাজশ এবং অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান মূল্যতালিকা না থাকাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। বিশেষ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অসংখ্য বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে অতিরিক্ত বিল আদায় এবং মূল্য নির্ধারণে অস্বচ্ছতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগে প্রতিদিন গড়ে দেড়শ থেকে দুইশ রোগীর এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০টি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। সরকার নির্ধারিত ফিতে এখানে প্রায় ৩৫ ধরনের পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় সেবা সীমিত হওয়ায় নমুনা জমা ও রিপোর্ট সংগ্রহের কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়, যা অনেক রোগীকে বাধ্য করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শরণাপন্ন হতে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চমেকে সিবিসি পরীক্ষার ফি ২০০ টাকা, যা বেসরকারি কেন্দ্রে ৫০০-৬০০ টাকা। ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা চমেকে ৫০ টাকা, বাইরে ৩০০-৪০০ টাকা। লিপিড প্রোফাইলের জন্য চমেকে ৩০০ টাকা লাগলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয় ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। ট্রপোনিন-আই পরীক্ষার ফি চমেকে ২০০-২৫০ টাকা হলেও বিভিন্ন বেসরকারি ল্যাবে প্রায় এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। ইউরিন আর/ই ও স্টুল আর/ই পরীক্ষা চমেকে মাত্র ২০ টাকায় করা হলেও বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে একই পরীক্ষার জন্য ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লোহিত সাগরের সংকটে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন চাপ: আফ্রিকা ঘুরে আসছে তেলের জাহাজ

রোগ নির্ণয় পরীক্ষায় ১২ গুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়: চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য খাতে চরম বৈষম্য

আপডেট সময় : ১১:৫০:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামে রোগ নির্ণয়ের বিভিন্ন পরীক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চরম মূল্য বৈষম্য দেখা দিয়েছে। একই ধরনের পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালে স্বল্প খরচে করা গেলেও বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোয় রোগীদের দুই থেকে ১২ গুণ পর্যন্ত বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে দুর্বল তদারকি, রেফারেল বাণিজ্য, অস্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ এবং দৃশ্যমান মূল্যতালিকার অভাবে সাধারণ রোগীরা প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা বইতে বাধ্য হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বল্প খরচে সেবা পাওয়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা, চিকিৎসক ও মধ্যস্বত্বভোগীর যোগসাজশ এবং অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান মূল্যতালিকা না থাকাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। বিশেষ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অসংখ্য বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে অতিরিক্ত বিল আদায় এবং মূল্য নির্ধারণে অস্বচ্ছতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগে প্রতিদিন গড়ে দেড়শ থেকে দুইশ রোগীর এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০টি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। সরকার নির্ধারিত ফিতে এখানে প্রায় ৩৫ ধরনের পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় সেবা সীমিত হওয়ায় নমুনা জমা ও রিপোর্ট সংগ্রহের কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়, যা অনেক রোগীকে বাধ্য করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শরণাপন্ন হতে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চমেকে সিবিসি পরীক্ষার ফি ২০০ টাকা, যা বেসরকারি কেন্দ্রে ৫০০-৬০০ টাকা। ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা চমেকে ৫০ টাকা, বাইরে ৩০০-৪০০ টাকা। লিপিড প্রোফাইলের জন্য চমেকে ৩০০ টাকা লাগলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয় ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। ট্রপোনিন-আই পরীক্ষার ফি চমেকে ২০০-২৫০ টাকা হলেও বিভিন্ন বেসরকারি ল্যাবে প্রায় এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। ইউরিন আর/ই ও স্টুল আর/ই পরীক্ষা চমেকে মাত্র ২০ টাকায় করা হলেও বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে একই পরীক্ষার জন্য ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।