ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যা: বছর পেরিয়েও অমীমাংসিত রহস্য, বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইতিহাসে এক শোকাবহ দিন ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই। ঠিক এক বছর আগে এই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল-সংলগ্ন পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর লাশ। প্রথমে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পরে ফরেনসিক ও ভিসেরা প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়, পানিতে ডুবে নয়, শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল তাকে।

তবে এক বছর পরও সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার তো দূরের কথা, খুনিদের পরিচয়ও নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। প্রশাসনের একের পর এক আশ্বাস, তদন্ত কমিটি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার ঘোষণা – এত কিছুর পরও মামলাটি আজও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

সাজিদকে হত্যার পর পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও স্মরণসভা করেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল সংগঠনগুলোও সম্মতি জানিয়ে আন্দোলন সক্রিয় করে তোলে। তাদের একটাই দাবি ছিল, দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

এদিকে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীলতার দোহাই দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে গড়ে ওঠা আন্দোলন নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সাজিদের বিভাগ আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে আন্দোলন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে দায়িত্বপ্রাপ্তির পর মহাসমারোহে আন্দোলন করলেও কয়েকদিন পর তা গতি হারায়।

সাজিদ হত্যার বিচার চেয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম পুষ্প বলেন, ‘গত বছর আমাদের বন্ধু সাজিদ আব্দুল্লাহকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। বিগত প্রশাসনের তদন্ত প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের গাফিলতি ও তালবাহানার অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই পরিণতিতে মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় আরেকটি হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হয়েছে।’

এছাড়া, গত ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সাজিদ হত্যা মামলার তদন্তকাজে প্রয়োজনবোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থীর সহযোগিতা চেয়েছিল প্রশাসন, তবে তাতেও কোনো ফল আসেনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লোহিত সাগরের সংকটে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন চাপ: আফ্রিকা ঘুরে আসছে তেলের জাহাজ

ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যা: বছর পেরিয়েও অমীমাংসিত রহস্য, বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১১:৪৯:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইতিহাসে এক শোকাবহ দিন ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই। ঠিক এক বছর আগে এই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল-সংলগ্ন পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর লাশ। প্রথমে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পরে ফরেনসিক ও ভিসেরা প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়, পানিতে ডুবে নয়, শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল তাকে।

তবে এক বছর পরও সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার তো দূরের কথা, খুনিদের পরিচয়ও নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। প্রশাসনের একের পর এক আশ্বাস, তদন্ত কমিটি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার ঘোষণা – এত কিছুর পরও মামলাটি আজও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

সাজিদকে হত্যার পর পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও স্মরণসভা করেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল সংগঠনগুলোও সম্মতি জানিয়ে আন্দোলন সক্রিয় করে তোলে। তাদের একটাই দাবি ছিল, দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

এদিকে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীলতার দোহাই দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে গড়ে ওঠা আন্দোলন নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সাজিদের বিভাগ আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে আন্দোলন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে দায়িত্বপ্রাপ্তির পর মহাসমারোহে আন্দোলন করলেও কয়েকদিন পর তা গতি হারায়।

সাজিদ হত্যার বিচার চেয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম পুষ্প বলেন, ‘গত বছর আমাদের বন্ধু সাজিদ আব্দুল্লাহকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। বিগত প্রশাসনের তদন্ত প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের গাফিলতি ও তালবাহানার অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই পরিণতিতে মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় আরেকটি হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হয়েছে।’

এছাড়া, গত ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সাজিদ হত্যা মামলার তদন্তকাজে প্রয়োজনবোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থীর সহযোগিতা চেয়েছিল প্রশাসন, তবে তাতেও কোনো ফল আসেনি।