ঢাকা ০১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

বিচারক সংকট: পটিয়ার আদালতে ৯ হাজার মামলা জটে ভোগান্তিতে বিচারপ্রার্থীরা

চট্টগ্রামের পটিয়ায় অবস্থিত যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (পটিয়া চৌকি) আদালতের আওতাধীন আনোয়ারা ও চন্দনাইশ উপজেলার আদালতগুলোতে প্রায় ১৮ মাস ধরে বিচারক না থাকায় বিচারপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে অন্য আদালতের বিচারকরা অতিরিক্ত দায়িত্বে দায়সারাভাবে এই দুই আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যার ফলে প্রায় ৯ হাজার মামলা অচলাবস্থায় পড়েছে।

জানা গেছে, ১৮৮২ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নির্মিত পটিয়া আদালত ভবনে একই বছর চৌকি আদালত চালু হয়, যা বর্তমানে পটিয়া যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত হিসেবে পরিচিত। এই আদালত দক্ষিণ চট্টগ্রামের পাঁচ উপজেলার দেওয়ানি আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে, ২০২৫ সালের শুরুতে আনোয়ারা ও চন্দনাইশ আদালতের বিচারক বদলি হওয়ার পর শূন্য পদে নতুন কোনো বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এর ফলে বোয়ালখালী আদালতের সিভিল জজ পলিনা আক্তারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বিচারক না থাকায় দুই উপজেলার আদালতে প্রায় ৯ হাজার মামলা বিচারাধীন অবস্থায় আটকে আছে। এই দীর্ঘ বিচারক সংকট মামলার জট বাড়িয়ে তুলছে এবং বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পটিয়া চৌকি আদালতের নাজির অনিক গুপ্ত জানিয়েছেন, দুই আদালতে প্রায় ৯ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং বিচারক বদলির কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

বিচারপ্রার্থীরা অভিযোগ করেন, একটি মামলার শুনানি হওয়ার পর পরবর্তী শুনানির জন্য চার থেকে ছয় মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে বিচারপ্রক্রিয়া অত্যন্ত দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তারা দ্রুত শূন্য পদে বিচারক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। পটিয়া আইনজীবী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক এমদাদ উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘পটিয়া চৌকি আদালতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পাঁচ উপজেলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লোহিত সাগরের সংকটে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন চাপ: আফ্রিকা ঘুরে আসছে তেলের জাহাজ

বিচারক সংকট: পটিয়ার আদালতে ৯ হাজার মামলা জটে ভোগান্তিতে বিচারপ্রার্থীরা

আপডেট সময় : ১১:৫৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের পটিয়ায় অবস্থিত যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (পটিয়া চৌকি) আদালতের আওতাধীন আনোয়ারা ও চন্দনাইশ উপজেলার আদালতগুলোতে প্রায় ১৮ মাস ধরে বিচারক না থাকায় বিচারপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে অন্য আদালতের বিচারকরা অতিরিক্ত দায়িত্বে দায়সারাভাবে এই দুই আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যার ফলে প্রায় ৯ হাজার মামলা অচলাবস্থায় পড়েছে।

জানা গেছে, ১৮৮২ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নির্মিত পটিয়া আদালত ভবনে একই বছর চৌকি আদালত চালু হয়, যা বর্তমানে পটিয়া যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত হিসেবে পরিচিত। এই আদালত দক্ষিণ চট্টগ্রামের পাঁচ উপজেলার দেওয়ানি আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে, ২০২৫ সালের শুরুতে আনোয়ারা ও চন্দনাইশ আদালতের বিচারক বদলি হওয়ার পর শূন্য পদে নতুন কোনো বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এর ফলে বোয়ালখালী আদালতের সিভিল জজ পলিনা আক্তারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বিচারক না থাকায় দুই উপজেলার আদালতে প্রায় ৯ হাজার মামলা বিচারাধীন অবস্থায় আটকে আছে। এই দীর্ঘ বিচারক সংকট মামলার জট বাড়িয়ে তুলছে এবং বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পটিয়া চৌকি আদালতের নাজির অনিক গুপ্ত জানিয়েছেন, দুই আদালতে প্রায় ৯ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং বিচারক বদলির কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

বিচারপ্রার্থীরা অভিযোগ করেন, একটি মামলার শুনানি হওয়ার পর পরবর্তী শুনানির জন্য চার থেকে ছয় মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে বিচারপ্রক্রিয়া অত্যন্ত দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তারা দ্রুত শূন্য পদে বিচারক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। পটিয়া আইনজীবী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক এমদাদ উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘পটিয়া চৌকি আদালতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পাঁচ উপজেলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।’