ঢাকা ০১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রামে নদী ভাঙনে বিলীন আশ্রয়ণ প্রকল্প: হাজারো পরিবার আশ্রয়হীন

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার চিলমারী উপজেলার চর বিশালপাড়া গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াল ভাঙনে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় ৫০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা আরও ২০টি বাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নদী ভাঙনের শিকার হয়ে অসংখ্য পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বাকপ্রতিবন্ধী শান্তনা খাতুন (২৫) জানান, ২০২২ সালে তার বাবা সরকার থেকে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েছিলেন। সেখানে তিনি পরিবারসহ প্রায় চার বছর বসবাস করেছেন। কিন্তু এ বছর ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাসে সেই ঘরটিও বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে তারা ভিটে-মাটি হারিয়ে প্রতিবেশীর সহায়তা নিয়ে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন।

জাহিনুর বেগম (৩৪) এই গ্রামেই নিজস্ব ছয় শতক জমিতে ধার-দেনা করে বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু নদী ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়ে এখন অন্যের জায়গায় ছোট্ট একটি ঘর তুলে বসবাস করছেন। ভাঙনের শিকার হয়ে ভিটেমাটি হারানো এবং অন্যের বাড়িতে বা অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা শুধু এই দুই পরিবারের গল্প নয়, এমন করুণ চিত্র চিলমারী উপজেলার চর বিশালপাড়া গ্রামের বহু পরিবারের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু এই গ্রামেই সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় ৫০টি বাড়ি ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে আরও ২০টি বাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিনিয়ত সর্বনাশা ব্রহ্মপুত্র তার ভাঙনের ভয়াল রূপ দেখাচ্ছে। ভাঙনের হুমকিতে এখনও প্রায় ২০০ পরিবার।

রোজিনা আক্তারের গল্পটা একটু ভিন্ন। প্রথমে তার সংসার ভেঙেছে, পরে বাড়ি-ঘর। ২০২৫ সালে সংসার ভাঙার পর তিনি বাবার সঙ্গে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন টেকেনি। এবারের নদী ভাঙনে তাদের আশ্রয়ণের ঘরটিও বিলীন হয়ে গেছে। পরিবারসহ তারাও এখন আশ্রয় নিয়েছেন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদী ভাঙনে বিপর্যস্ত কড়াই বরিশাল চরের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর এখন আর কোনো চিহ্ন নেই। শুধু মাটিতে পড়ে রয়েছে ইট-সুরকি। অনেকে ভাঙনের কবল থেকে শেষ সম্বল রক্ষা করতে ঘরের টিনের চাল, বেড়া খুলে নিয়ে যাচ্ছেন। ভাঙনের কবল থেকে বেঁচে যাওয়া ঘরের আঙিনায় বসে রাশেদা, নুর নাহার, স্বপ্না বেগম, ফতেমা বানুর মতো অনেকেই তাদের হারানো ঘরের স্মৃতিচারণ করছেন। ভিটেমাটি হারানো নুর নাহার (৪০) বলেন, ‘তিন লাখ টাকা দিয়ে জমি কিনেছিলাম।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লোহিত সাগরের সংকটে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন চাপ: আফ্রিকা ঘুরে আসছে তেলের জাহাজ

কুড়িগ্রামে নদী ভাঙনে বিলীন আশ্রয়ণ প্রকল্প: হাজারো পরিবার আশ্রয়হীন

আপডেট সময় : ১১:৫৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার চিলমারী উপজেলার চর বিশালপাড়া গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াল ভাঙনে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় ৫০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা আরও ২০টি বাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নদী ভাঙনের শিকার হয়ে অসংখ্য পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বাকপ্রতিবন্ধী শান্তনা খাতুন (২৫) জানান, ২০২২ সালে তার বাবা সরকার থেকে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েছিলেন। সেখানে তিনি পরিবারসহ প্রায় চার বছর বসবাস করেছেন। কিন্তু এ বছর ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাসে সেই ঘরটিও বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে তারা ভিটে-মাটি হারিয়ে প্রতিবেশীর সহায়তা নিয়ে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন।

জাহিনুর বেগম (৩৪) এই গ্রামেই নিজস্ব ছয় শতক জমিতে ধার-দেনা করে বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু নদী ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়ে এখন অন্যের জায়গায় ছোট্ট একটি ঘর তুলে বসবাস করছেন। ভাঙনের শিকার হয়ে ভিটেমাটি হারানো এবং অন্যের বাড়িতে বা অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা শুধু এই দুই পরিবারের গল্প নয়, এমন করুণ চিত্র চিলমারী উপজেলার চর বিশালপাড়া গ্রামের বহু পরিবারের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু এই গ্রামেই সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় ৫০টি বাড়ি ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে আরও ২০টি বাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিনিয়ত সর্বনাশা ব্রহ্মপুত্র তার ভাঙনের ভয়াল রূপ দেখাচ্ছে। ভাঙনের হুমকিতে এখনও প্রায় ২০০ পরিবার।

রোজিনা আক্তারের গল্পটা একটু ভিন্ন। প্রথমে তার সংসার ভেঙেছে, পরে বাড়ি-ঘর। ২০২৫ সালে সংসার ভাঙার পর তিনি বাবার সঙ্গে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন টেকেনি। এবারের নদী ভাঙনে তাদের আশ্রয়ণের ঘরটিও বিলীন হয়ে গেছে। পরিবারসহ তারাও এখন আশ্রয় নিয়েছেন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদী ভাঙনে বিপর্যস্ত কড়াই বরিশাল চরের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর এখন আর কোনো চিহ্ন নেই। শুধু মাটিতে পড়ে রয়েছে ইট-সুরকি। অনেকে ভাঙনের কবল থেকে শেষ সম্বল রক্ষা করতে ঘরের টিনের চাল, বেড়া খুলে নিয়ে যাচ্ছেন। ভাঙনের কবল থেকে বেঁচে যাওয়া ঘরের আঙিনায় বসে রাশেদা, নুর নাহার, স্বপ্না বেগম, ফতেমা বানুর মতো অনেকেই তাদের হারানো ঘরের স্মৃতিচারণ করছেন। ভিটেমাটি হারানো নুর নাহার (৪০) বলেন, ‘তিন লাখ টাকা দিয়ে জমি কিনেছিলাম।’