ঢাকা ০১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের স্মরণে শহীদ আব্দুল রাকিব: আত্মত্যাগের এক অদম্য উপাখ্যান

বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো মহান জুলাই বিপ্লব। এই বিপ্লব কেবল রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নয়, বরং আধিপত্যবাদবিরোধী সাধারণ মানুষের উত্থান এবং স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের এক মহাকাব্য। এই সংগ্রামের ইতিহাসে এমন অনেক নাম জড়িয়ে আছে, যারা মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। শহীদ আব্দুল রাকিব তাদেরই একজন, যার ২২ বছরের জীবনকাহিনী রূপকথার চেয়েও অসাধারণ।

আব্দুল রাকিবের জন্ম ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি, কুমিল্লার মুরাদনগরে। তিনি ছিলেন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, কিন্তু তার দেশপ্রেম ছিল অতুলনীয়। জুলাই আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে, যখন যাত্রাবাড়ীর রাজপথ পুলিশি নির্যাতনের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল, তখনো আন্দোলন থামেনি। শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশ ‘দেখামাত্রই গুলি’ সত্ত্বেও, যাত্রাবাড়ীর মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা তাদের অধিকার আদায়ে অকুতোভয় ছিল।

ফ্লাইওভার, রাস্তায় এবং পার্কের সামনে একের পর এক মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারালেও, জনতার অভিধান থেকে ‘ভয়’ শব্দটি যেন মুছে গিয়েছিল। একজন পড়ে গেলে আরেকজন সামনে এসে দাঁড়াতো, তাদের চোখে ছিল ইস্পাতদৃঢ়তা। এই দৃশ্যগুলো রাকিবকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। বিশেষ করে, শহীদ আবু সাঈদের প্রসারিত দুই হাত তাকে নতুন সাহস জুগিয়েছিল। পুলিশের গুলির সামনে দাঁড়িয়ে দুই হাত ছড়িয়ে ‘বুক পেতেছি, গুলি কর’ বলে স্লোগান দিতেন তিনি।

নিজের বুকে বাংলাদেশের পতাকা বেঁধে মিছিলের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতেন রাকিব। ১৯ জুলাই পুলিশের ছররা গুলিতে তিনি আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কমপক্ষে ৫০টি ছররা বুলেট তার পিঠে লেগেছিল। সাধারণ মানুষ এমন আঘাতের পর হয়তো আর রাজপথে ফিরতেন না, কিন্তু রাকিব ছিলেন ব্যতিক্রম। দেশের মানুষকে গুম, খুন ও লুটতরাজ থেকে মুক্ত করার দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। তার কাছে নিজের নিরাপত্তার চেয়ে দেশের মুক্তি ছিল অনেক বড়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লোহিত সাগরের সংকটে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন চাপ: আফ্রিকা ঘুরে আসছে তেলের জাহাজ

জুলাই বিপ্লবের স্মরণে শহীদ আব্দুল রাকিব: আত্মত্যাগের এক অদম্য উপাখ্যান

আপডেট সময় : ১১:৫৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো মহান জুলাই বিপ্লব। এই বিপ্লব কেবল রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নয়, বরং আধিপত্যবাদবিরোধী সাধারণ মানুষের উত্থান এবং স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের এক মহাকাব্য। এই সংগ্রামের ইতিহাসে এমন অনেক নাম জড়িয়ে আছে, যারা মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। শহীদ আব্দুল রাকিব তাদেরই একজন, যার ২২ বছরের জীবনকাহিনী রূপকথার চেয়েও অসাধারণ।

আব্দুল রাকিবের জন্ম ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি, কুমিল্লার মুরাদনগরে। তিনি ছিলেন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, কিন্তু তার দেশপ্রেম ছিল অতুলনীয়। জুলাই আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে, যখন যাত্রাবাড়ীর রাজপথ পুলিশি নির্যাতনের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল, তখনো আন্দোলন থামেনি। শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশ ‘দেখামাত্রই গুলি’ সত্ত্বেও, যাত্রাবাড়ীর মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা তাদের অধিকার আদায়ে অকুতোভয় ছিল।

ফ্লাইওভার, রাস্তায় এবং পার্কের সামনে একের পর এক মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারালেও, জনতার অভিধান থেকে ‘ভয়’ শব্দটি যেন মুছে গিয়েছিল। একজন পড়ে গেলে আরেকজন সামনে এসে দাঁড়াতো, তাদের চোখে ছিল ইস্পাতদৃঢ়তা। এই দৃশ্যগুলো রাকিবকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। বিশেষ করে, শহীদ আবু সাঈদের প্রসারিত দুই হাত তাকে নতুন সাহস জুগিয়েছিল। পুলিশের গুলির সামনে দাঁড়িয়ে দুই হাত ছড়িয়ে ‘বুক পেতেছি, গুলি কর’ বলে স্লোগান দিতেন তিনি।

নিজের বুকে বাংলাদেশের পতাকা বেঁধে মিছিলের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতেন রাকিব। ১৯ জুলাই পুলিশের ছররা গুলিতে তিনি আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কমপক্ষে ৫০টি ছররা বুলেট তার পিঠে লেগেছিল। সাধারণ মানুষ এমন আঘাতের পর হয়তো আর রাজপথে ফিরতেন না, কিন্তু রাকিব ছিলেন ব্যতিক্রম। দেশের মানুষকে গুম, খুন ও লুটতরাজ থেকে মুক্ত করার দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। তার কাছে নিজের নিরাপত্তার চেয়ে দেশের মুক্তি ছিল অনেক বড়।