ঢাকা ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

জ্বালানি সংকট ও বিনিয়োগের ভাটা: শিল্প খাতে অচলাবস্থা

জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হার, ডলার সংকট এবং বিনিয়োগে স্থবিরতায় দেশের শিল্প খাত নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়েছে। গত এক বছরে আড়াই শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে দেড় লাখের বেশি শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। প্রধান শিল্পগুলোর উৎপাদন কমেছে এবং রপ্তানি আদেশও হ্রাস পেয়েছে।

এ অবস্থায় শিল্পে গতি ফেরাতে বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। তবে উদ্যোক্তারা প্রশ্ন তুলছেন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে নতুন বিনিয়োগ কীভাবে আসবে?

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছোট-বড় মিলিয়ে আড়াই শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে দেড় লাখের বেশি শ্রমিক-কর্মচারী সরাসরি কর্মহীন হয়েছেন। চালু থাকা অনেক কারখানাও তাদের পূর্ণ সক্ষমতার অনেক নিচে উৎপাদন করছে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বিক্রি কমে যাওয়ায় অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানি উৎস তৈরির কাজ একসঙ্গে এগোচ্ছে। অতিরিক্ত এলএনজি আমদানি, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ), স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল, আইএসও ট্যাংকের ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প—সবই সরকারের জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ।

তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে আমরা বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে দেখছি। ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। সে লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুৎ, সরকারি অব্যবহৃত জমিতে পিপিপি মডেলে প্রকল্প, গ্রিড সংযোগ ও শিল্পের জন্য বিকল্প জ্বালানি সমাধান নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করছি।

আশিক চৌধুরী আরো বলেন, বাংলাদেশ এখনো একটি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য। ২০২৫ সালের জন্য বিডার পাইপলাইনে থাকা দেড় বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। আমরা বিনিয়োগকারীদের এমন প্রতিশ্রুতিই দিই, যা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। কোন খাতে, কোথায় ও কী ধরনের জ্বালানি সুবিধার ভিত্তিতে বিনিয়োগ এগোনো যাবে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত কৃষকের মৃত্যু, পরিবারে শোকের ছায়া

জ্বালানি সংকট ও বিনিয়োগের ভাটা: শিল্প খাতে অচলাবস্থা

আপডেট সময় : ০৮:৩১:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হার, ডলার সংকট এবং বিনিয়োগে স্থবিরতায় দেশের শিল্প খাত নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়েছে। গত এক বছরে আড়াই শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে দেড় লাখের বেশি শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। প্রধান শিল্পগুলোর উৎপাদন কমেছে এবং রপ্তানি আদেশও হ্রাস পেয়েছে।

এ অবস্থায় শিল্পে গতি ফেরাতে বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। তবে উদ্যোক্তারা প্রশ্ন তুলছেন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে নতুন বিনিয়োগ কীভাবে আসবে?

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছোট-বড় মিলিয়ে আড়াই শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে দেড় লাখের বেশি শ্রমিক-কর্মচারী সরাসরি কর্মহীন হয়েছেন। চালু থাকা অনেক কারখানাও তাদের পূর্ণ সক্ষমতার অনেক নিচে উৎপাদন করছে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বিক্রি কমে যাওয়ায় অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানি উৎস তৈরির কাজ একসঙ্গে এগোচ্ছে। অতিরিক্ত এলএনজি আমদানি, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ), স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল, আইএসও ট্যাংকের ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প—সবই সরকারের জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ।

তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে আমরা বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে দেখছি। ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। সে লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুৎ, সরকারি অব্যবহৃত জমিতে পিপিপি মডেলে প্রকল্প, গ্রিড সংযোগ ও শিল্পের জন্য বিকল্প জ্বালানি সমাধান নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করছি।

আশিক চৌধুরী আরো বলেন, বাংলাদেশ এখনো একটি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য। ২০২৫ সালের জন্য বিডার পাইপলাইনে থাকা দেড় বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। আমরা বিনিয়োগকারীদের এমন প্রতিশ্রুতিই দিই, যা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। কোন খাতে, কোথায় ও কী ধরনের জ্বালানি সুবিধার ভিত্তিতে বিনিয়োগ এগোনো যাবে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।