মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার অনুরোধ দিল্লি খতিয়ে দেখছে। ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে এসব তথ্য জানিয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার।
বাংলাদেশ-সংক্রান্ত ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জসহ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সংসদীয় কমিটির এই প্রতিবেদন টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ অন্যান্য ভারতীয় গণমাধ্যমে ফলাও করে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগিয়ে নিতে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নসহ ভিসা কার্যক্রম চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কথিত সংখ্যালঘু নির্যাতন, সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি, বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি, ভারতের নিরাপত্তা হুমকিসহ বিভিন্ন বিষয় নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে কথিত সংখ্যালঘু নির্যাতনসহ এমন সব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংসদীয় কমিটি সরকারকে মানবিক ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের সংবেদনশীল পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনার সুপারিশ করেছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৯ জুলাই প্রথমবারের মতো বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে। বৈঠকের মাত্র একদিন পরেই ভারতীয় সংসদীয় কমিটির এই প্রতিবেদন সামনে এলো, যা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন কোনো ইস্যু নেই, যা সমাধান করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান কোনো প্রকার রাখঢাক না রেখেই বলেছেন, আমরা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চাই। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু অস্বস্তির জায়গা রয়েছে। এগুলোর সুরাহা হতে হবে।
রিপোর্টারের নাম 





















