ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্বে ইরান: তেহরান থেকে রিয়াদ পর্যন্ত ভূ-রাজনৈতিক হিসাব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৭:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে দিয়েছে, আর নিজে দর্শকের আসনে বসে মার্কিন করদাতাদের সেই যুদ্ধের খরচ বহন করতে দেখছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উসকানিতে যুদ্ধে পা দেওয়ার আগে যে প্রণালীটি পুরোপুরি উন্মুক্ত ছিল, তা পুনরায় চালুর অজুহাতে পেট্রোল পাম্পে পেট্রোলের দাম এবং মূল্যস্ফীতির চাপে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার চলে যাচ্ছে। এখন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপদ দূরত্বে বসে মার্কিন বাহিনী ও ইরানের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের খেলা দেখে মুচকি হাসছেন—যে যুদ্ধের জন্য তিনি বছরের পর বছর ধরে ওয়াশিংটনকে ঠেলে দিয়েছেন।

এদিকে দেশে মার্কিন সৈনিকদের কফিন এসে পৌঁছাচ্ছে—একটি যুদ্ধের বলি হয়ে, যার সূচনা করেছিল ইসরাইল আর তা বাস্তবায়ন করল মার্কিন সৈন্যরা। অন্যদিকে কংগ্রেসে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক সচিব (প্রতিরক্ষামন্ত্রী) পিট হেগসেথ সিনেটের কাছে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আরও অর্থ বরাদ্দের আবেদন করছেন। আইনপ্রণেতাদের এমন একটি যুদ্ধের চেক সই করতে বলা হচ্ছে, যা শুরু করার অনুমোদন তারা কখনো দেননি; যে যুদ্ধের লক্ষ্য ওয়াশিংটন নির্ধারণ করেনি এবং যার সমাপ্তি কখন বা কীভাবে হবে—তার কোনো হিসাবও কারো জানা নেই।

অন্যদিকে দখলকৃত ফিলিস্তিনে ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এক আবাসন সম্মেলনে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘ইসরাইলের এই অভিযানে যোগ দেওয়ার কোনো আগ্রহ নেই… ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই সীমাবদ্ধ সংঘাতটিই [পরিস্থিতি] আমাদের [ইসরাইলের] জন্য সবচেয়ে সঠিক ও লাভজনক।’ সহজ ভাষায় বললে, আসুন আমরা বসে বসে দেখি আমেরিকানরা মরছে এবং আমাদের যুদ্ধের জন্য মূল্য দিচ্ছে।

সংগত প্রমাণ, যুক্তরাষ্ট্র যখন এই অঞ্চলজুড়ে নিজের সামরিক ঘাঁটিগুলো রক্ষা করতে গিয়ে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ শেষ করে ফেলছে, তখন ইসরাইল তাদের নিজস্ব ইন্টারসেপ্টরগুলো জমিয়ে রাখছে। ইসরাইল তাদের মজুদ খরচ করছে না। তারা সেই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছে যখন আমেরিকানদের ভাঁড়ার শূন্য হয়ে যাবে এবং উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। আর ঠিক তখনই, ইসরাইলি ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হবে এক বহুমূল্য অস্ত্র—যা তারা বিশাল মূল্যের বিনিময়ে ইউএই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) এবং বাকি উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে বিক্রি করবে।

গত রোববার ‘ফক্স নিউজ’-এ সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কটিয়াদীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু, বন্ধু আহত

ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্বে ইরান: তেহরান থেকে রিয়াদ পর্যন্ত ভূ-রাজনৈতিক হিসাব

আপডেট সময় : ১০:২৭:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে দিয়েছে, আর নিজে দর্শকের আসনে বসে মার্কিন করদাতাদের সেই যুদ্ধের খরচ বহন করতে দেখছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উসকানিতে যুদ্ধে পা দেওয়ার আগে যে প্রণালীটি পুরোপুরি উন্মুক্ত ছিল, তা পুনরায় চালুর অজুহাতে পেট্রোল পাম্পে পেট্রোলের দাম এবং মূল্যস্ফীতির চাপে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার চলে যাচ্ছে। এখন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপদ দূরত্বে বসে মার্কিন বাহিনী ও ইরানের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের খেলা দেখে মুচকি হাসছেন—যে যুদ্ধের জন্য তিনি বছরের পর বছর ধরে ওয়াশিংটনকে ঠেলে দিয়েছেন।

এদিকে দেশে মার্কিন সৈনিকদের কফিন এসে পৌঁছাচ্ছে—একটি যুদ্ধের বলি হয়ে, যার সূচনা করেছিল ইসরাইল আর তা বাস্তবায়ন করল মার্কিন সৈন্যরা। অন্যদিকে কংগ্রেসে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক সচিব (প্রতিরক্ষামন্ত্রী) পিট হেগসেথ সিনেটের কাছে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আরও অর্থ বরাদ্দের আবেদন করছেন। আইনপ্রণেতাদের এমন একটি যুদ্ধের চেক সই করতে বলা হচ্ছে, যা শুরু করার অনুমোদন তারা কখনো দেননি; যে যুদ্ধের লক্ষ্য ওয়াশিংটন নির্ধারণ করেনি এবং যার সমাপ্তি কখন বা কীভাবে হবে—তার কোনো হিসাবও কারো জানা নেই।

অন্যদিকে দখলকৃত ফিলিস্তিনে ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এক আবাসন সম্মেলনে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘ইসরাইলের এই অভিযানে যোগ দেওয়ার কোনো আগ্রহ নেই… ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই সীমাবদ্ধ সংঘাতটিই [পরিস্থিতি] আমাদের [ইসরাইলের] জন্য সবচেয়ে সঠিক ও লাভজনক।’ সহজ ভাষায় বললে, আসুন আমরা বসে বসে দেখি আমেরিকানরা মরছে এবং আমাদের যুদ্ধের জন্য মূল্য দিচ্ছে।

সংগত প্রমাণ, যুক্তরাষ্ট্র যখন এই অঞ্চলজুড়ে নিজের সামরিক ঘাঁটিগুলো রক্ষা করতে গিয়ে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ শেষ করে ফেলছে, তখন ইসরাইল তাদের নিজস্ব ইন্টারসেপ্টরগুলো জমিয়ে রাখছে। ইসরাইল তাদের মজুদ খরচ করছে না। তারা সেই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছে যখন আমেরিকানদের ভাঁড়ার শূন্য হয়ে যাবে এবং উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। আর ঠিক তখনই, ইসরাইলি ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হবে এক বহুমূল্য অস্ত্র—যা তারা বিশাল মূল্যের বিনিময়ে ইউএই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) এবং বাকি উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে বিক্রি করবে।

গত রোববার ‘ফক্স নিউজ’-এ সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু…