ঢাকা কলেজের শহিদ মো. ফরহাদ হোসেন ছাত্রাবাসের পাশে চলাচলের রাস্তায় আড়াআড়িভাবে একটি গাছ হেলে আছে। গাছটি হেলে পড়ার প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও কলেজ প্রশাসন এটিকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এতে শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন।
জানা গেছে, গত জুন মাসের ২০ তারিখ ঝড়ে কলেজের ফরহাদ হলের সামনের একটি কড়ই গাছ গোড়াসহ হেলে পড়ে। এতে কলেজের ফরহাদ হলের পানির পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় গাছটিকে দড়ি দিয়ে সাময়িকভাবে অপর একটি গাছের সঙ্গে হেলান দিয়ে রাখেন কলেজের কর্মচারীরা। কিন্তু এরপর এক মাস ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও ঝুঁকিপূর্ণ গাছটি সরানো হয়নি। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাছটি এখনো একটি গাছের ওপর হেলে আছে এবং এর নিচের রাস্তা দিয়ে শিক্ষার্থীরা চলাচল করছেন। এতে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এক মাস অতিবাহিত হলেও হেলে পড়া গাছটি সরানোর জন্য কলেজ প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দক্ষিণায়ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাহিয়ান রেহমান রাহাত বলেন, ‘গত কয়েকদিনের ঝড়ে হলপাড়ার মূল রাস্তায় একটি গাছ পড়ে যাওয়ার কারণে চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। এই গাছটির জন্য আবাসিক শিক্ষার্থীদের অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে, সাইকেল নিয়েও তারা চলাচল করতে পারছে না। এটা শুধু গাছ পড়ে থাকার বিষয় নয়, এর সঙ্গে ক্যাম্পাসের সার্বিক বিষয়ে প্রশাসনের যে উদাসীনতা ও ছাত্রদের প্রতি অবহেলার মনোভাব, তা খুবই দুঃখজনক। আমাদের জোর দাবি, শুধু ক্যাম্পাসের গাছের বিষয় নয়, শিক্ষার্থীরা হলে নানা জটিলতার মধ্যে থাকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সমস্যার সমাধানের দাবি কলেজ প্রশাসনের কাছে জানাচ্ছি।’
শিক্ষার্থী সাকিব আল হাসান বলেন, ‘একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা কখনোই অবহেলার বিষয় হতে পারে না। অথচ দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে একটি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ দাঁড়িয়ে থাকলেও কলেজ প্রশাসনের এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার অপেক্ষায় থাকা কি সমাধান? যদি কোনো শিক্ষার্থীর ক্ষতি হয়, তাহলে সেই দায় কে নেবে? কলেজ প্রশাসনের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত এবং আশা করি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
এ বিষয়ে কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার মাহমুদ বলেন, গাছ অপসারণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের আজই বিষয়টি দেখবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 




















