ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ভারতে ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সংগীতের সমমর্যাদা: বিতর্কিত বিল লোকসভায় পাস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ভারতের লোকসভায় তুমুল বিতর্ক ও বিরোধী দলগুলোর সংশোধনী প্রস্তাব বাতিলের মধ্য দিয়ে একটি বিল পাস হয়েছে, যা দেশটির হিন্দুত্ববাদী জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-এর সমমর্যাদা দেবে। এই বিল অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম’-এর যেকোনো অপমানকে এখন থেকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

মাত্র দুজন আইনপ্রণেতার বক্তব্যের পর বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিরোধী দল ডিএমকে-এর সাংসদ এ রাজা বিলটির বিরোধিতা করে একে ‘হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা’ আখ্যা দেন এবং বলেন যে এটি ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আইন করে জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় এবং এই গানটি দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধান প্রণেতারা এই গানের কেবল দুটি স্তবকে থেমে গেলেও, এখন সবকটি (ছয়টি) স্তবক গাওয়ার বাধ্যবাধকতা এবং তা না গাইলে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান দেশের মেরুকরণের চেষ্টা বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিজেপির সম্বিত পাত্রের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, কংগ্রেস তাদের ৭৬ বছরের শাসনকালে ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় গান হিসেবে উপযুক্ত সম্মান দেয়নি। বিলটি পাসের পর বিরোধীদের অব্যাহত স্লোগানের মুখে লোকসভার অধিবেশন দিনের মতো মুলতবি ঘোষণা করা হয়। চলমান বর্ষাকালীন অধিবেশনে এটিই প্রথম বিল যা লোকসভায় পাস হলো।

চলমান ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন’ অনুযায়ী, জাতীয় সংগীত (জনগণমন) গাওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া বা সমবেত হয়ে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় বিঘ্ন ঘটানো নিষিদ্ধ। এসব অপরাধের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। নতুন সংশোধনী বিলটি এই আইনকে আরও কঠোর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২১ মাস পর কমল নীতি সুদহার: বাণিজ্যিক ঋণে সুদের চাপ কমার প্রত্যাশা

ভারতে ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সংগীতের সমমর্যাদা: বিতর্কিত বিল লোকসভায় পাস

আপডেট সময় : ০৯:২৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ভারতের লোকসভায় তুমুল বিতর্ক ও বিরোধী দলগুলোর সংশোধনী প্রস্তাব বাতিলের মধ্য দিয়ে একটি বিল পাস হয়েছে, যা দেশটির হিন্দুত্ববাদী জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-এর সমমর্যাদা দেবে। এই বিল অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম’-এর যেকোনো অপমানকে এখন থেকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

মাত্র দুজন আইনপ্রণেতার বক্তব্যের পর বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিরোধী দল ডিএমকে-এর সাংসদ এ রাজা বিলটির বিরোধিতা করে একে ‘হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা’ আখ্যা দেন এবং বলেন যে এটি ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আইন করে জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় এবং এই গানটি দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধান প্রণেতারা এই গানের কেবল দুটি স্তবকে থেমে গেলেও, এখন সবকটি (ছয়টি) স্তবক গাওয়ার বাধ্যবাধকতা এবং তা না গাইলে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান দেশের মেরুকরণের চেষ্টা বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিজেপির সম্বিত পাত্রের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, কংগ্রেস তাদের ৭৬ বছরের শাসনকালে ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় গান হিসেবে উপযুক্ত সম্মান দেয়নি। বিলটি পাসের পর বিরোধীদের অব্যাহত স্লোগানের মুখে লোকসভার অধিবেশন দিনের মতো মুলতবি ঘোষণা করা হয়। চলমান বর্ষাকালীন অধিবেশনে এটিই প্রথম বিল যা লোকসভায় পাস হলো।

চলমান ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন’ অনুযায়ী, জাতীয় সংগীত (জনগণমন) গাওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া বা সমবেত হয়ে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় বিঘ্ন ঘটানো নিষিদ্ধ। এসব অপরাধের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। নতুন সংশোধনী বিলটি এই আইনকে আরও কঠোর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।