সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কওমি মাদরাসা-সংশ্লিষ্ট কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিচালিত ‘একমুখী প্রচারণায়’ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কওমি মাদরাসাগুলোর সমন্বিত সর্বোচ্চ সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংস্থাটি একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদরাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন এবং অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত বুধবার রাজধানী ঢাকায় আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়ে ‘কওমি মাদরাসা বিরোধী অপপ্রচার রোধ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় আল-হাইআতুল উলয়ার করণীয়’ শীর্ষক এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশক্রমে আয়োজিত এই সভায় সংস্থাটির অধীন ছয়টি কওমি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমান।
সভায় বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো অপরাধ, অনিয়ম বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং অপরাধীদের কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তবে, সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা, লাখ লাখ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকসমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সভায় আরও বলা হয়, দেশের ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ গঠন এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে কওমি মাদরাসার দীর্ঘদিনের অবদান রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়কে সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং কওমি মাদরাসা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।
আল-হাইআতুল উলয়ার পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, কোনো সংবাদ, ভিডিও বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া গ্রহণ বা প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে। একইসাথে গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানানো হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























