ঢাকা ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

ঢাবি নীল দলের বিরুদ্ধে তদন্তে প্রশাসন, গণ-অভ্যুত্থানে ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের দাবি খতিয়ে দেখা এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি, বিগত জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে কোনো শিক্ষক বা সংগঠনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের এক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোরশেদ হাসান খান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদকে সমর্থন, ছাত্র ও ভিন্নমতাবলম্বী শিক্ষকদের দমন-পীড়নে নীল দলের সম্পৃক্ততা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তাদের ভূমিকা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।

সিন্ডিকেট সভার সূত্র আরও জানায়, তদন্তে যদি কোনো শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়াও প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একইভাবে, কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে সেই সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, “ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ” ব্যানারে অভিযোগপত্র আসার পর উপাচার্যের নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে কোনো শিক্ষককে দোষী পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে সেই সংগঠনের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র

ঢাবি নীল দলের বিরুদ্ধে তদন্তে প্রশাসন, গণ-অভ্যুত্থানে ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

আপডেট সময় : ০৫:৪১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের দাবি খতিয়ে দেখা এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি, বিগত জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে কোনো শিক্ষক বা সংগঠনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের এক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোরশেদ হাসান খান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদকে সমর্থন, ছাত্র ও ভিন্নমতাবলম্বী শিক্ষকদের দমন-পীড়নে নীল দলের সম্পৃক্ততা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তাদের ভূমিকা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।

সিন্ডিকেট সভার সূত্র আরও জানায়, তদন্তে যদি কোনো শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়াও প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একইভাবে, কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে সেই সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, “ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ” ব্যানারে অভিযোগপত্র আসার পর উপাচার্যের নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে কোনো শিক্ষককে দোষী পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে সেই সংগঠনের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।