ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বড় সাজ্জাদ বাহিনীর দুই শীর্ষ নেতাকে ধরতে গিয়েও ব্যর্থ পুলিশ

চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে আলোচিত সাজ্জাদ বাহিনীর দুই নম্বর নেতা মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও পুলিশের হাত থেকে অল্পের জন্য ফসকে গেছেন বাহিনীর আরেক শীর্ষ নেতা, কিলিং স্কোয়াডের প্রধান রায়হান আলম। একই রাতে চালানো দুটি পৃথক অভিযানে একজনকে ধরা গেলেও আরেকজনকে হাতছাড়া হওয়ায় বড় সাজ্জাদ বাহিনীর মূল কাঠামো ভাঙার সুযোগটি এবার পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারল না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কয়েক দিন ধরে ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্তে কাজ করছিল গোয়েন্দা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোরের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয় এবং একাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে যশোর কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকার একটি চেকপোস্টে সন্দেহভাজন চারজনকে থামিয়ে পরিচয় যাচাই করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই গ্রেপ্তার করা হয় ডেভিড ইমনকে। তার সঙ্গে থাকা তিন সহযোগী আলিস তমাল, শাফায়াত ও শামীমকেও আটক করে পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বুধবার বিকেলে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে ধরতে সক্ষম হয়েছে এবং গ্রেপ্তারের পর তাকে চট্টগ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

একই রাতে নোয়াখালীতে চালানো আরেকটি অভিযানে বাহিনীর কিলিং স্কোয়াড প্রধান রায়হান আলমকে ধরতে যায় পুলিশ। কিন্তু তিনি অল্পের জন্য এড়িয়ে যান। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, তারা রায়হানকে একটুর জন্য ধরতে পারেননি, তবে তিনি এখনো তাদের নজরদারির আওতায় আছেন এবং শিগগিরই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। রায়হান আলম ফসকে যাওয়াটা পুলিশের জন্য একটি বড় ধাক্কা, কারণ ডেভিড ইমনের পাশাপাশি তাকেও ধরতে পারলে বিদেশে পলাতক আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রধান হোতা সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের চট্টগ্রামের নেতৃত্বকাঠামোর দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হতো।

এদিকে, চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে সাজ্জাদ আলী খান দাবি করেছেন, চট্টগ্রামে তার নাম ব্যবহার করে একটি চক্র চাঁদাবাজি করছে এবং তিনি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। তিনি রায়হান আলম নামে কাউকে চেনেন না বলেও জানান। তার দাবি, তাকে জড়িয়ে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো ভিত্তিহীন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সালথায় প্যানেল চেয়ারম্যানের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল: তদন্তের নির্দেশ ইউএনও’র

বড় সাজ্জাদ বাহিনীর দুই শীর্ষ নেতাকে ধরতে গিয়েও ব্যর্থ পুলিশ

আপডেট সময় : ০৬:৫১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে আলোচিত সাজ্জাদ বাহিনীর দুই নম্বর নেতা মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও পুলিশের হাত থেকে অল্পের জন্য ফসকে গেছেন বাহিনীর আরেক শীর্ষ নেতা, কিলিং স্কোয়াডের প্রধান রায়হান আলম। একই রাতে চালানো দুটি পৃথক অভিযানে একজনকে ধরা গেলেও আরেকজনকে হাতছাড়া হওয়ায় বড় সাজ্জাদ বাহিনীর মূল কাঠামো ভাঙার সুযোগটি এবার পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারল না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কয়েক দিন ধরে ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্তে কাজ করছিল গোয়েন্দা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোরের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয় এবং একাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে যশোর কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকার একটি চেকপোস্টে সন্দেহভাজন চারজনকে থামিয়ে পরিচয় যাচাই করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই গ্রেপ্তার করা হয় ডেভিড ইমনকে। তার সঙ্গে থাকা তিন সহযোগী আলিস তমাল, শাফায়াত ও শামীমকেও আটক করে পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বুধবার বিকেলে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে ধরতে সক্ষম হয়েছে এবং গ্রেপ্তারের পর তাকে চট্টগ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

একই রাতে নোয়াখালীতে চালানো আরেকটি অভিযানে বাহিনীর কিলিং স্কোয়াড প্রধান রায়হান আলমকে ধরতে যায় পুলিশ। কিন্তু তিনি অল্পের জন্য এড়িয়ে যান। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, তারা রায়হানকে একটুর জন্য ধরতে পারেননি, তবে তিনি এখনো তাদের নজরদারির আওতায় আছেন এবং শিগগিরই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। রায়হান আলম ফসকে যাওয়াটা পুলিশের জন্য একটি বড় ধাক্কা, কারণ ডেভিড ইমনের পাশাপাশি তাকেও ধরতে পারলে বিদেশে পলাতক আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রধান হোতা সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের চট্টগ্রামের নেতৃত্বকাঠামোর দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হতো।

এদিকে, চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে সাজ্জাদ আলী খান দাবি করেছেন, চট্টগ্রামে তার নাম ব্যবহার করে একটি চক্র চাঁদাবাজি করছে এবং তিনি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। তিনি রায়হান আলম নামে কাউকে চেনেন না বলেও জানান। তার দাবি, তাকে জড়িয়ে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো ভিত্তিহীন।