ঢাকা ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের শোক ভুলে প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে তাহসিন: ভাইরাল হাসির পেছনের গল্প

রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে গত ২৭ জুলাই, ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকে বাড়িয়ে দেওয়া এক শিশুর দুটি হাত আর মুখে লেগে থাকা নির্মল হাসি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই হৃদয়স্পর্শী হাসির পেছনের গল্পটি জেনে অবশেষে সেই শিশু তাহসিন আব্দুল্লাহকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তাহসিন ও তার বাবা নাজমুল হক। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিশুটির খোঁজ-খবর নেন, তার স্বপ্নের কথা শোনেন এবং ভবিষ্যতের জন্য তাকে উৎসাহ ও শুভকামনা জানান। প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের এই দুঃসাহসিক পথচলায় তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

যদিও ওই হাসির ছবি অসংখ্য মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছিল, এর আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক গভীর বেদনার গল্প। জানা যায়, বিগত ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় তাহসিন তার বড় বোন তাসনিয়াকে হারিয়েছিল। একই স্কুলে পড়লেও সেদিন তারা ছিল দুটি আলাদা ভবনে। তাহসিন তখন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, আর তাসনিয়া পড়ত অষ্টম শ্রেণিতে। যুদ্ধবিমানটি আছড়ে পড়েছিল তাসনিয়াদের ভবনে।

বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ছোট্ট তাহসিন ছুটে গিয়েছিল বড় বোনকে খুঁজতে। কারো কাছ থেকে শুনেছিল আহতদের জন্য স্যালাইন ও পানির প্রয়োজন। তাই ছোট্ট দুই হাতে স্যালাইন ও পানির বোতল নিয়ে বড় বোনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিল সে। কিন্তু সেই অপেক্ষার আর কোনো শেষ হয়নি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুর্ঘটনার পর থেকেই বদলে যায় তাহসিন। এক হিলিং সেশনে সে কাগজে লিখেছিল, ‘আমার কষ্ট অনেক। আমি আমার প্রিয় বোনকে হারিয়ে ফেলেছি। সে মারা গেছে। ওকে আমি অনেক অনেক মিস করি। ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।’ বোনকে হারানোর পর থেকে তাহসিনের মুখে আগের মতো প্রাণখোলা হাসি আর দেখা যেত না।

কিন্তু গত ২৭ জুলাইয়ের বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে যেন দেখা মিলল অন্য এক তাহসিনের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন মাঠ প্রদক্ষিণ করছিলেন, তখন তার কাছাকাছি আসার মুহূর্তে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে শিশুটি। সেই নির্মল হাসি আর উচ্ছ্বাস ক্যামেরাবন্দি হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অসংখ্য মানুষ তাহসিনের হাসির সঙ্গে নিজেদের অনুভূতি মিলিয়ে নেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানতে পারেন, ছবির সেই হাসিমাখা মুখটির পেছনে রয়েছে এক হৃদয়বিদারক পারিবারিক ইতিহাস। বিষয়টি জানার পর তিনি তাহসিনের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র

যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের শোক ভুলে প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে তাহসিন: ভাইরাল হাসির পেছনের গল্প

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে গত ২৭ জুলাই, ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকে বাড়িয়ে দেওয়া এক শিশুর দুটি হাত আর মুখে লেগে থাকা নির্মল হাসি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই হৃদয়স্পর্শী হাসির পেছনের গল্পটি জেনে অবশেষে সেই শিশু তাহসিন আব্দুল্লাহকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তাহসিন ও তার বাবা নাজমুল হক। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিশুটির খোঁজ-খবর নেন, তার স্বপ্নের কথা শোনেন এবং ভবিষ্যতের জন্য তাকে উৎসাহ ও শুভকামনা জানান। প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের এই দুঃসাহসিক পথচলায় তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

যদিও ওই হাসির ছবি অসংখ্য মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছিল, এর আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক গভীর বেদনার গল্প। জানা যায়, বিগত ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় তাহসিন তার বড় বোন তাসনিয়াকে হারিয়েছিল। একই স্কুলে পড়লেও সেদিন তারা ছিল দুটি আলাদা ভবনে। তাহসিন তখন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, আর তাসনিয়া পড়ত অষ্টম শ্রেণিতে। যুদ্ধবিমানটি আছড়ে পড়েছিল তাসনিয়াদের ভবনে।

বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ছোট্ট তাহসিন ছুটে গিয়েছিল বড় বোনকে খুঁজতে। কারো কাছ থেকে শুনেছিল আহতদের জন্য স্যালাইন ও পানির প্রয়োজন। তাই ছোট্ট দুই হাতে স্যালাইন ও পানির বোতল নিয়ে বড় বোনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিল সে। কিন্তু সেই অপেক্ষার আর কোনো শেষ হয়নি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুর্ঘটনার পর থেকেই বদলে যায় তাহসিন। এক হিলিং সেশনে সে কাগজে লিখেছিল, ‘আমার কষ্ট অনেক। আমি আমার প্রিয় বোনকে হারিয়ে ফেলেছি। সে মারা গেছে। ওকে আমি অনেক অনেক মিস করি। ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।’ বোনকে হারানোর পর থেকে তাহসিনের মুখে আগের মতো প্রাণখোলা হাসি আর দেখা যেত না।

কিন্তু গত ২৭ জুলাইয়ের বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে যেন দেখা মিলল অন্য এক তাহসিনের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন মাঠ প্রদক্ষিণ করছিলেন, তখন তার কাছাকাছি আসার মুহূর্তে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে শিশুটি। সেই নির্মল হাসি আর উচ্ছ্বাস ক্যামেরাবন্দি হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অসংখ্য মানুষ তাহসিনের হাসির সঙ্গে নিজেদের অনুভূতি মিলিয়ে নেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানতে পারেন, ছবির সেই হাসিমাখা মুখটির পেছনে রয়েছে এক হৃদয়বিদারক পারিবারিক ইতিহাস। বিষয়টি জানার পর তিনি তাহসিনের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান।