ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

কাস্পিয়ান সাগরে হামলার জেরে ইউক্রেনে ইরানি পাল্টা হামলার শঙ্কা, কূটনৈতিক তৎপরতায় উত্তেজনা প্রশমন

কাস্পিয়ান সাগরে নিজেদের একটি বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে ইউক্রেনের হামলার জবাবে পাল্টা আক্রমণ চালানোর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছিল ইরান। তবে জরুরি কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে আপাতত সেই পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছে দেশটি। গত মঙ্গলবার এই তথ্য জানা যায় ইরানি ও পশ্চিমা সূত্রের বরাতে।

গত শনিবার কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওই হামলায় ইরানের এক বেসামরিক নাবিকও নিহত হন। এর পরদিনই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউক্রেনের এই পদক্ষেপকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে এই ঘটনা ‘জবাবহীন রাখা সম্ভব নয়।’ পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, ইরান হয়তো বড় ধরনের ক্ষতি না করে একটি প্রতীকী জবাব দিতে ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরে কম ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়ারহেডযুক্ত ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি ইরান থেকে ইউক্রেন ভূখণ্ডে যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আঞ্চলিক গণ্ডি ছাড়িয়ে এক বড় ধরনের যুদ্ধের রূপ দিতে পারত।

তবে চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার ইউক্রেনীয় কূটনীতিকদের উদ্যোগে আলোচনা শুরু হলে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। ফোনালাপের পর ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সিবিহা কাস্পিয়ান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাটিকে ‘অনিচ্ছাকৃত ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ফোনালাপ প্রসঙ্গে আরাঘচি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেন, ‘ইরানও সংঘাত বৃদ্ধি করতে চায় না, তবে আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি যে আমাদের নাগরিক বা স্বার্থের ওপর যেকোনো হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এই ঘটনার সঠিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’ পরবর্তীতে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কাল্লাসের সাথেও আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাসের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। তেহরানভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেহেদী রহমতি জানান, ইরানি সরকারের একটি অংশ শুরুতেই ইউক্রেনের ওপর পাল্টা সামরিক হামলার বিরোধিতা করেছিল। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন কোনো ছোট বা দুর্বল দেশ নয়। তাদের সামরিক অভিজ্ঞতা আছে এবং তারা আমেরিকা ও ইউরোপের লজিস্টিক সহায়তা পাচ্ছে। নতুন একটি যুদ্ধের ফ্রন্ট তৈরি করে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সালথায় প্যানেল চেয়ারম্যানের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল: তদন্তের নির্দেশ ইউএনও’র

কাস্পিয়ান সাগরে হামলার জেরে ইউক্রেনে ইরানি পাল্টা হামলার শঙ্কা, কূটনৈতিক তৎপরতায় উত্তেজনা প্রশমন

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

কাস্পিয়ান সাগরে নিজেদের একটি বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে ইউক্রেনের হামলার জবাবে পাল্টা আক্রমণ চালানোর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছিল ইরান। তবে জরুরি কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে আপাতত সেই পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছে দেশটি। গত মঙ্গলবার এই তথ্য জানা যায় ইরানি ও পশ্চিমা সূত্রের বরাতে।

গত শনিবার কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওই হামলায় ইরানের এক বেসামরিক নাবিকও নিহত হন। এর পরদিনই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউক্রেনের এই পদক্ষেপকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে এই ঘটনা ‘জবাবহীন রাখা সম্ভব নয়।’ পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, ইরান হয়তো বড় ধরনের ক্ষতি না করে একটি প্রতীকী জবাব দিতে ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরে কম ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়ারহেডযুক্ত ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি ইরান থেকে ইউক্রেন ভূখণ্ডে যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আঞ্চলিক গণ্ডি ছাড়িয়ে এক বড় ধরনের যুদ্ধের রূপ দিতে পারত।

তবে চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার ইউক্রেনীয় কূটনীতিকদের উদ্যোগে আলোচনা শুরু হলে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। ফোনালাপের পর ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সিবিহা কাস্পিয়ান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাটিকে ‘অনিচ্ছাকৃত ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ফোনালাপ প্রসঙ্গে আরাঘচি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেন, ‘ইরানও সংঘাত বৃদ্ধি করতে চায় না, তবে আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি যে আমাদের নাগরিক বা স্বার্থের ওপর যেকোনো হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এই ঘটনার সঠিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’ পরবর্তীতে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কাল্লাসের সাথেও আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাসের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। তেহরানভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেহেদী রহমতি জানান, ইরানি সরকারের একটি অংশ শুরুতেই ইউক্রেনের ওপর পাল্টা সামরিক হামলার বিরোধিতা করেছিল। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন কোনো ছোট বা দুর্বল দেশ নয়। তাদের সামরিক অভিজ্ঞতা আছে এবং তারা আমেরিকা ও ইউরোপের লজিস্টিক সহায়তা পাচ্ছে। নতুন একটি যুদ্ধের ফ্রন্ট তৈরি করে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।’