ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে গীর্জা কিনে ইসলামিক শিক্ষা ও প্রার্থনা কেন্দ্র বানাচ্ছেন মুসলিমরা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রিচার্ডসনে একটি ব্যাপটিস্ট গীর্জা কিনে নিয়েছে মুসলিম সংগঠন ‘সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমি’ (এসএএফএ)। আইনি জটিলতা নিরসনের পর তারা এই বৃহৎ চার্চ প্রাঙ্গণটিকে একটি ইসলামিক স্কুল, সেমিনারি এবং মসজিদে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এসএএফএ একটি কে-১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হলো ‘জ্ঞানকে ইসলামিক রূপদান’—যার মাধ্যমে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কোরআন ও হাদিসের শিক্ষাকে প্রতিটি ক্ষেত্রে সমন্বিত করা হবে।

তারা এই সম্পত্তিটি ক্রয় করেছে ‘কোরিয়ান ওয়ার্ল্ড মিশন ব্যাপটিস্ট চার্চ’-এর কাছ থেকে, যারা ১৯৯২ সাল থেকে এর মালিক ছিল। এই খ্রিষ্টান ধর্মীয় কেন্দ্রটির পূর্বের লক্ষ্য ছিল খ্রিষ্টধর্মের বার্তা প্রচার করা এবং যিশুখ্রিষ্টের অনুসারী তৈরি করা।

নতুন এই উদ্যোগে সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমির পাশাপাশি ‘অথেনটিক ইলম মিশন’ (এআইএম) যৌথভাবে ‘দাওয়াহ একাডেমি অ্যান্ড সেমিনারি’ চালু করতে যাচ্ছে। এটিকে আমেরিকার প্রথম কোনো জাতীয় আবাসিক দাওয়াহ সেমিনারি হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, যেখানে ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রিসহ বিভিন্ন কোর্স করানো হবে।

সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এমন একদল যোগ্য ও নীতিবান নেতৃত্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যারা প্রজ্ঞার সাথে ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং সত্যের সমর্থনে প্রামাণিক অবস্থান তুলে ধরবে।

চার্চ হস্তান্তরের বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় এআইএম-এর এক বক্তা মন্তব্য করেন, যে চার্চটি একসময় মুসলিমদের খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার প্রশিক্ষণ দিত, আজ সেটিই একটি মুসলিম প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে যাচ্ছে।

এই ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছিল। চার্চটি হস্তান্তরের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে এবং ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ চেয়ে সাফা একটি আইনি পদক্ষেপ নেয়। তবে, পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে কোনো চূড়ান্ত রায় ছাড়াই মামলাটি নিষ্পত্তি হয় এবং সম্পত্তি ক্রয়ের পথ সুগম হয়।

চার্চটির হাতবদলের এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন টেক্সাসে ইসলামের ক্রমবর্ধমান বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। ডেমোগ্রাফিক তথ্যানুযায়ী, টেক্সাসের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ মুসলিম হলেও, জনসংখ্যার দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫ম বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্য। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ইসলাম অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লার তিতাসে টেঁটাযুদ্ধে নারী নিহত: ৬১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, গ্রেপ্তার ৫

যুক্তরাষ্ট্রে গীর্জা কিনে ইসলামিক শিক্ষা ও প্রার্থনা কেন্দ্র বানাচ্ছেন মুসলিমরা

আপডেট সময় : ০৪:২৫:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রিচার্ডসনে একটি ব্যাপটিস্ট গীর্জা কিনে নিয়েছে মুসলিম সংগঠন ‘সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমি’ (এসএএফএ)। আইনি জটিলতা নিরসনের পর তারা এই বৃহৎ চার্চ প্রাঙ্গণটিকে একটি ইসলামিক স্কুল, সেমিনারি এবং মসজিদে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এসএএফএ একটি কে-১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হলো ‘জ্ঞানকে ইসলামিক রূপদান’—যার মাধ্যমে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কোরআন ও হাদিসের শিক্ষাকে প্রতিটি ক্ষেত্রে সমন্বিত করা হবে।

তারা এই সম্পত্তিটি ক্রয় করেছে ‘কোরিয়ান ওয়ার্ল্ড মিশন ব্যাপটিস্ট চার্চ’-এর কাছ থেকে, যারা ১৯৯২ সাল থেকে এর মালিক ছিল। এই খ্রিষ্টান ধর্মীয় কেন্দ্রটির পূর্বের লক্ষ্য ছিল খ্রিষ্টধর্মের বার্তা প্রচার করা এবং যিশুখ্রিষ্টের অনুসারী তৈরি করা।

নতুন এই উদ্যোগে সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমির পাশাপাশি ‘অথেনটিক ইলম মিশন’ (এআইএম) যৌথভাবে ‘দাওয়াহ একাডেমি অ্যান্ড সেমিনারি’ চালু করতে যাচ্ছে। এটিকে আমেরিকার প্রথম কোনো জাতীয় আবাসিক দাওয়াহ সেমিনারি হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, যেখানে ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রিসহ বিভিন্ন কোর্স করানো হবে।

সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এমন একদল যোগ্য ও নীতিবান নেতৃত্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যারা প্রজ্ঞার সাথে ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং সত্যের সমর্থনে প্রামাণিক অবস্থান তুলে ধরবে।

চার্চ হস্তান্তরের বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় এআইএম-এর এক বক্তা মন্তব্য করেন, যে চার্চটি একসময় মুসলিমদের খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার প্রশিক্ষণ দিত, আজ সেটিই একটি মুসলিম প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে যাচ্ছে।

এই ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছিল। চার্চটি হস্তান্তরের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে এবং ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ চেয়ে সাফা একটি আইনি পদক্ষেপ নেয়। তবে, পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে কোনো চূড়ান্ত রায় ছাড়াই মামলাটি নিষ্পত্তি হয় এবং সম্পত্তি ক্রয়ের পথ সুগম হয়।

চার্চটির হাতবদলের এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন টেক্সাসে ইসলামের ক্রমবর্ধমান বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। ডেমোগ্রাফিক তথ্যানুযায়ী, টেক্সাসের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ মুসলিম হলেও, জনসংখ্যার দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫ম বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্য। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ইসলাম অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।