বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল। সেই হারের পর সংবাদ সম্মেলনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কোচ লিওনেল স্কালোনি। প্রায় এক সপ্তাহ পর নীরবতা ভেঙে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন, যেখানে ফুটে উঠেছে হারানোর যন্ত্রণা, খেলোয়াড়দের প্রতি অগাধ ভালোবাসা এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
বিশ্বকাপ শেষে নিজ শহর পুজাতোতে কয়েকদিন কাটানোর পর ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ বার্তাটি প্রকাশ করেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ। চিঠির শুরুতেই সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি লেখেন, ‘আমি দুঃখিত, আপনাদের জন্য আরেকটি কাপ নিয়ে আসতে পারিনি।’
স্কালোনি লিখেছেন, ফাইনালের পর তার অনুভূতি ছিল পরস্পরবিরোধী আবেগের এক অদ্ভুত মিশ্রণ। তিনি অনুভব করেছেন ‘দুঃখ আর আনন্দ, কান্না আর হাসি, যন্ত্রণা আর প্রশান্তি—সবকিছু একসঙ্গে’। তার মতে, বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও দলের লড়াই এবং একে অপরের প্রতি নিবেদন ছিল গর্ব করার মতো।
চিঠিতে খেলোয়াড়দের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও তুলে ধরেন স্কালোনি। তিনি জানান, পরিবারে, বিশেষ করে স্ত্রীর কাছে প্রায়ই তিনি এই দলকে ‘আমার যোদ্ধারা’ বলেই পরিচয় করাতেন। মাঠে খেলোয়াড়দের লড়াই, আত্মত্যাগ এবং দেশের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার মানসিকতাই তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনা দলকে নিয়ে যেসব সমালোচনা হয়েছিল, সেগুলোরও জবাব দিয়েছেন এই কোচ। তিনি লিখেছেন, এমন অনেকেই কঠোর সমালোচনা করেছেন যারা দলটিকে আদৌ চেনেন না। সেই অভিজ্ঞতাকে তিনি তুলনা করেছেন ‘বরফঠান্ডা জলের ধাক্কা’র সঙ্গে। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও দল যেভাবে ঐক্য ধরে রেখেছে, সেটিকেই তিনি নিজের কাছে ‘আসল ট্রফি’ বলে মনে করেন।
শুধু ফুটবলার নয়, পুরো কোচিং স্টাফ, মেডিকেল টিম, আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কর্মকর্তা এবং পর্দার আড়ালে কাজ করা প্রতিটি মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্কালোনি। তার ভাষায়, সাফল্য বা ব্যর্থতার পেছনে এই মানুষগুলোর অবদান সমান গুরুত্বপূর্ণ।
চিঠির শেষ অংশে তিনি লিখেছেন, ‘যার একজন আর্জেন্টাইন বন্ধু আছে, তার কাছে অমূল্য সম্পদ আছে।’ এই একটি বাক্যই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখো সমর্থকের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া কুড়িয়ে নেয়।
রিপোর্টারের নাম 

























