ঢাকা ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ফাইনাল হারার পর স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে আর্জেন্টিনার আভিজাত্য ও মর্যাদা হানি

ক্রীড়াজগতে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক হলেও, খেলার মাঠের ফলাফল ছাপিয়ে খেলোয়াড়দের আচরণ, নৈতিকতা ও স্পোর্টসম্যানশিপ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গত ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে এই সত্যটি আবারও প্রমাণিত হয়েছে।

ফাইনালে ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে, ম্যাচ শেষে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দলটির পারফরম্যান্সের চেয়ে তাদের চরম অপেশাদার আচরণের বিষয়টিই বেশি সমালোচিত ও আলোচিত হচ্ছে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদপত্র লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের এক বিশ্লেষণে কড়া ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা কেবল একটি সোনালি ট্রফিই হারায়নি, বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলে গড়ে তোলা তাদের পেশাদার মর্যাদাও হারিয়েছে।

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ফাইনালের চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তে দলটির একাধিক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় তাদের মেজাজ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের যোগ করা সময়ে চরম আক্রমণাত্মক ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষোভ সামলাতে না পেরে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা দল। স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াকে গলা চেপে ধরে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন লিয়ান্দ্রো পারেদেস, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের দীর্ঘ ইতিহাসে এক বিরল ও তিক্ত অভিজ্ঞতা। শুধু তাই নয়, পুরো ম্যাচজুড়ে একের পর এক ফাউল করতে থাকে আলবিসেলেস্তেরা। মাঠের লড়াইয়ে সাফল্য না পেয়ে যেন ফাউলের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল পারেদেস-এনজোরা।

ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থক বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। আর্জেন্টিনা দলের হাজার হাজার ভক্ত গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে পুরো ৯০ মিনিট দলকে সমর্থন জুগিয়েছেন। কিন্তু ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ট্রফি দেওয়ার সময় বিজয়ী স্পেন দলের দিকে পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছিল স্পোর্টসম্যানশিপের চরম অবমাননা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টি-টোয়েন্টি সিরিজে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করল ভারত

ফাইনাল হারার পর স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে আর্জেন্টিনার আভিজাত্য ও মর্যাদা হানি

আপডেট সময় : ০১:৫৪:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ক্রীড়াজগতে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক হলেও, খেলার মাঠের ফলাফল ছাপিয়ে খেলোয়াড়দের আচরণ, নৈতিকতা ও স্পোর্টসম্যানশিপ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গত ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে এই সত্যটি আবারও প্রমাণিত হয়েছে।

ফাইনালে ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে, ম্যাচ শেষে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দলটির পারফরম্যান্সের চেয়ে তাদের চরম অপেশাদার আচরণের বিষয়টিই বেশি সমালোচিত ও আলোচিত হচ্ছে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদপত্র লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের এক বিশ্লেষণে কড়া ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা কেবল একটি সোনালি ট্রফিই হারায়নি, বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলে গড়ে তোলা তাদের পেশাদার মর্যাদাও হারিয়েছে।

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ফাইনালের চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তে দলটির একাধিক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় তাদের মেজাজ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের যোগ করা সময়ে চরম আক্রমণাত্মক ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষোভ সামলাতে না পেরে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা দল। স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াকে গলা চেপে ধরে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন লিয়ান্দ্রো পারেদেস, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের দীর্ঘ ইতিহাসে এক বিরল ও তিক্ত অভিজ্ঞতা। শুধু তাই নয়, পুরো ম্যাচজুড়ে একের পর এক ফাউল করতে থাকে আলবিসেলেস্তেরা। মাঠের লড়াইয়ে সাফল্য না পেয়ে যেন ফাউলের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল পারেদেস-এনজোরা।

ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থক বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। আর্জেন্টিনা দলের হাজার হাজার ভক্ত গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে পুরো ৯০ মিনিট দলকে সমর্থন জুগিয়েছেন। কিন্তু ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ট্রফি দেওয়ার সময় বিজয়ী স্পেন দলের দিকে পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছিল স্পোর্টসম্যানশিপের চরম অবমাননা।