বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল এবং ভারতের পেট্রাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় পণ্যবাহী ট্রাকের প্রবেশ ও রপ্তানির সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা দুদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আগে যেখানে পেট্রাপোল থেকে বেনাপোল বন্দরে দৈনিক প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০টি পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করত, সেখানে বর্তমানে এই সংখ্যা কমে ২০০ থেকে ৩০০-তে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে দৈনিক রপ্তানি হওয়া ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাকের সংখ্যা এখন ১০০-এর নিচে নেমে এসেছে। চলতি বছরের প্রথম ১৫ দিনে মাত্র ৭৫৩টি বাংলাদেশি ট্রাক ভারতে পণ্য রপ্তানি করেছে, যেখানে ভারত থেকে এসেছে তিন হাজার ৩৮টি ট্রাক।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই বাণিজ্য সংকটের মূল কারণ হলো দুদেশের মধ্যে আরোপিত পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা। গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই আমদানি-রপ্তানির ওপর একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যেমন, বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মীজানুর রহমান খান অবিলম্বে ভারতীয় নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত পণ্যগুলো পুনরায় আমদানির সুযোগ চালুর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নতুন সরকার এবং ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণের পর দুদেশের সম্পর্ক দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং ট্যুরিস্ট ভিসার কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার মতো ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো এই বাণিজ্যের উন্নয়নে সহায়ক হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























