কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলার অভিযোগের পর নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের দাবি, এই হামলায় তাদের একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এই হামলাকে ‘শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কাস্পিয়ান সাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার মাধ্যমে ইউক্রেন আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে। তেহরানের মতে, এই ঘটনা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে এবং ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে দাবি করেছেন যে, ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলায় কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি জাহাজ এবং একটি রুশ যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ইরানি জাহাজটির নাম প্রকাশ করেননি।
জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেছেন যে, রাশিয়া ইরানকে উপসাগরীয় অঞ্চল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সম্পর্কিত স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে, যা পরবর্তীতে ইরানের সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেন এই তথ্য তাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গেও ভাগাভাগি করবে।
২০২২ সালে রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহের পর থেকেই তেহরান ও কিয়েভের সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া ইরানি নকশার ড্রোন ব্যবহার করে তাদের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের দাবি, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ৪৪ হাজারেরও বেশি ইরানি নকশার ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কাস্পিয়ান সাগরে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে কাস্পিয়ান সাগরকে ইরানের তুলনামূলক নিরাপদ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলার পর সেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























