ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সিরিয়া ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি করতে আগ্রহী, শান্তি আলোচনার পথ খুঁজছে দামেস্ক

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা জানিয়েছেন, দামেস্ক ইসরাইলের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি সম্পাদনের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, কয়েকটি দেশের অংশগ্রহণে চলমান এই আলোচনা ভবিষ্যতে একটি বিস্তৃত শান্তি চুক্তির পথ প্রশস্ত করবে।

আল জাজিরার ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট আল-শারা বলেন, সিরিয়া এমন একটি নিরাপত্তা সমঝোতা চায় যা উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই চুক্তির ফলে অধিকৃত গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার ঐতিহাসিক অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হবে না। তার মতে, সিরিয়া বর্তমানে ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যেতে আগ্রহী নয় এবং একটি কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃহত্তর ও দীর্ঘমেয়াদি সংকট সমাধানের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর আহমেদ আল-শারা সিরিয়ার ক্ষমতায় আসেন। তার এই মন্তব্য দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরাইলের একাধিক সামরিক অভিযান ও বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

সাক্ষাৎকারে আল-শারা প্রতিবেশী লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে সিরিয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান। তিনি বলেন, বরং লেবাননের চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে দেশটির কর্তৃপক্ষকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি মনে করেন, লেবাননের সংকট কেবল নিরাপত্তা দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়; বরং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন। তিনি দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত অঞ্চল পুনরুদ্ধার এবং দেশটির সমস্ত অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে থাকার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে তার সরাসরি প্রভাব সিরিয়ার ওপর পড়বে। এছাড়া, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ বিস্তৃত হলে পুরো অঞ্চল ভয়াবহ সংকটে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট আল-শারা বলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেই হবে না, একই সঙ্গে সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’-এর তালিকা থেকেও বাদ দিতে হবে। তবেই দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যকর হবে বলে তিনি মনে করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্দীকে ব্রিজের রেলিংয়ে ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর

সিরিয়া ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি করতে আগ্রহী, শান্তি আলোচনার পথ খুঁজছে দামেস্ক

আপডেট সময় : ০৮:১৯:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা জানিয়েছেন, দামেস্ক ইসরাইলের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি সম্পাদনের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, কয়েকটি দেশের অংশগ্রহণে চলমান এই আলোচনা ভবিষ্যতে একটি বিস্তৃত শান্তি চুক্তির পথ প্রশস্ত করবে।

আল জাজিরার ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট আল-শারা বলেন, সিরিয়া এমন একটি নিরাপত্তা সমঝোতা চায় যা উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই চুক্তির ফলে অধিকৃত গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার ঐতিহাসিক অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হবে না। তার মতে, সিরিয়া বর্তমানে ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যেতে আগ্রহী নয় এবং একটি কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃহত্তর ও দীর্ঘমেয়াদি সংকট সমাধানের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর আহমেদ আল-শারা সিরিয়ার ক্ষমতায় আসেন। তার এই মন্তব্য দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরাইলের একাধিক সামরিক অভিযান ও বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

সাক্ষাৎকারে আল-শারা প্রতিবেশী লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে সিরিয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান। তিনি বলেন, বরং লেবাননের চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে দেশটির কর্তৃপক্ষকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি মনে করেন, লেবাননের সংকট কেবল নিরাপত্তা দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়; বরং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন। তিনি দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত অঞ্চল পুনরুদ্ধার এবং দেশটির সমস্ত অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে থাকার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে তার সরাসরি প্রভাব সিরিয়ার ওপর পড়বে। এছাড়া, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ বিস্তৃত হলে পুরো অঞ্চল ভয়াবহ সংকটে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট আল-শারা বলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেই হবে না, একই সঙ্গে সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’-এর তালিকা থেকেও বাদ দিতে হবে। তবেই দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যকর হবে বলে তিনি মনে করেন।