ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর প্রথম বড় সাফল্যের পর দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে নতুন আশার আলো দেখছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও আন্দোলনের অন্যান্য দাবি সরকার মেনে নেওয়ায় আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ৩০ বছর বয়সী এই আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, ‘এখন আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি, নিজের ঘরে ঘুম থেকে উঠতে পারি— সারাদিন কী হবে বা পরক্ষণেই কী করতে হবে, তা নিয়ে আর আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে না।’
৩৭ দিন ধরে চলা আন্দোলনের অভিজ্ঞতাকে তিনি ‘অত্যন্ত কঠিন’ বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে এই অর্জন তাদের পথচলার শেষ নয়। দীপকে বলেন, ‘এটি কেবল শুরু। ককরোচ জনতা পার্টির সামনে এখনো অনেক দীর্ঘ পথ বাকি।’ গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে ব্যঙ্গ করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গঠন করেছিলেন দীপকে। শুরুতে এটি একটি প্রতীকী উদ্যোগ হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এটি দেশজুড়ে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে।
পরবর্তীকালে হাজারো সমর্থক, যারা নিজেদের ‘ককরোচ’ বলে পরিচয় দিতেন, রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক আন্দোলনস্থল যন্তর মন্তরে সমবেত হন। সেখানে ‘ইনকিলাব’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে আন্দোলনের মঞ্চ। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়ী করে তার পদত্যাগের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। সরকারের সিদ্ধান্তে বিলম্ব হওয়ায় আন্দোলনে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সমর্থক যুক্ত হতে থাকেন। অবশেষে শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পাশাপাশি সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দিলে সিজেপি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
ভিডিও বার্তায় দীপকে জানান, এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। শুরুতে অনেকেই তাদের উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। এরপরও যারা আন্দোলনের পাশে থেকেছেন, তাদের প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ায় এবং জ্বরে ভোগার কারণে আন্দোলন প্রত্যাহারের দিন যন্তর মন্তরে উপস্থিত সবার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে ধন্যবাদ জানাতে পারেননি। দীপকে বলেন, ‘যারা ৩৭ দিন ধরে যন্তর মন্তরে অবস্থান করেছেন, প্রত্যেককে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। দেশের জন্য আপনারা যা করেছেন, তার জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।’
রিপোর্টারের নাম 




















