ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

রংপুরে মাদক সাম্রাজ্য: চুনোপুঁটি ধরা পড়লেও অধরা রাঘববোয়াল

রংপুর জেলার বদরগঞ্জ পৌর শহরসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল মাদক কারবারিদের দখলে। স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজ সোনার মেম্বার ও মাদক ব্যবসায়ী ইলিয়াস আলীর মতো প্রভাবশালীরা প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার কলকাঠি নাড়ছেন। ফলে, মাদক সেবনকারী ও কারবারিদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাঝে মাঝে দুয়েকজন ছোটখাটো কারবারি ধরা পড়লেও মূল হোতারা বরাবরের মতোই অধরা থেকে যাচ্ছে।

প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই মাদকের কেনাবেচা শুরু হয় এবং মাদক সেবনের আসর জমে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় থানা পুলিশ নিয়মিত মাসোহারা পেয়ে থাকে এবং জনবল ও যানবাহনের সংকটের অজুহাতে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বদরগঞ্জ উপজেলায় দেড় শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী সক্রিয় রয়েছে। মাদক সেবনকারীর সংখ্যা নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সহজলভ্য হওয়ায় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে মাদকসহ ছোটখাটো কারবারিদের গ্রেপ্তার করে নিজেদের কোটা পূরণ করলেও প্রভাবশালী মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা ও সেবন চলছে অবাধে। শিশু-কিশোর এবং নারীরাও মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে মাদক কারবারিদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। প্রশাসনের ছত্রছায়ায় তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এই পরিস্থিতির কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যানবাহনের অবাধ চলাচল ও অবৈধ স্থাপনা: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে লোহাগাড়ায় তীব্র যানজট

রংপুরে মাদক সাম্রাজ্য: চুনোপুঁটি ধরা পড়লেও অধরা রাঘববোয়াল

আপডেট সময় : ১০:২১:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

রংপুর জেলার বদরগঞ্জ পৌর শহরসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল মাদক কারবারিদের দখলে। স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজ সোনার মেম্বার ও মাদক ব্যবসায়ী ইলিয়াস আলীর মতো প্রভাবশালীরা প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার কলকাঠি নাড়ছেন। ফলে, মাদক সেবনকারী ও কারবারিদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাঝে মাঝে দুয়েকজন ছোটখাটো কারবারি ধরা পড়লেও মূল হোতারা বরাবরের মতোই অধরা থেকে যাচ্ছে।

প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই মাদকের কেনাবেচা শুরু হয় এবং মাদক সেবনের আসর জমে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় থানা পুলিশ নিয়মিত মাসোহারা পেয়ে থাকে এবং জনবল ও যানবাহনের সংকটের অজুহাতে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বদরগঞ্জ উপজেলায় দেড় শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী সক্রিয় রয়েছে। মাদক সেবনকারীর সংখ্যা নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সহজলভ্য হওয়ায় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে মাদকসহ ছোটখাটো কারবারিদের গ্রেপ্তার করে নিজেদের কোটা পূরণ করলেও প্রভাবশালী মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা ও সেবন চলছে অবাধে। শিশু-কিশোর এবং নারীরাও মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে মাদক কারবারিদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। প্রশাসনের ছত্রছায়ায় তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এই পরিস্থিতির কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।