ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

তালায় উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাৎ: কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টিআর (Tr) এবং কাবিটা (KGF) প্রকল্পের আওতায় গ্রাম উন্নয়নের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কোনো কাজ না করেই প্রকল্পের অর্থ বিল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, টিআর প্রকল্পের প্রথম পর্বে মাদরা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পরিতোষের বাড়ি অভিমুখে এবং শালিখা খেয়াঘাট অভিমুখে ইটের রাস্তা সংস্কারের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, ইউপি সদস্য প্রবীর মণ্ডল মাত্র দুই হাজার ইটের কাজ দেখিয়ে এবং পুরাতন রাস্তার ওপর বালু ছড়িয়ে দিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

একইভাবে, কাবিটা প্রকল্পের প্রথম পর্বে মাদরা শ্মশান ঘাটে মাটি ভরাটের কাজে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইউপি সদস্য নমিতা মণ্ডল অর্ধেক টাকার কাজ করে সমুদয় টাকা তুলে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই বিল ছাড়ানোর জন্য পিআইও (PIO) অফিসকে সন্তুষ্ট করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাগুরা শ্মশান ঘাটের মাটি ভরাটের জন্য কাবিটা প্রকল্পে ৫.৫০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম নামমাত্র কাজ করে পুরোটা তুলে নিয়েছেন।

কাবিটা দ্বিতীয় পর্যায়ে মাগুরা ক্ষত্রীয় পাড়া সুকুমারের জমির মাথা থেকে জিতেনের বটতলা পর্যন্ত মাটি দ্বারা সংস্কার কাজে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই কাজেও ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম একই ধরনের অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ। মাগুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা উত্তম সেন বাবুলাল নিজের প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক দুলাল চন্দ্র বাছাড়কে সভাপতি করে কোনো কাজ না করেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মাগুরা জান্নাতুল ফেরদৌস জামে মসজিদের নামে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে স্থানীয় রেজাউল করিমকে সভাপতি করে নামমাত্র কাজ করে সমুদয় টাকা লুটপাট করা হয়েছে।

টিআর প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে মাগুরাডাঙ্গা অমূল্য মণ্ডলের জমির মাথা থেকে মাদরা গেট অভিমুখে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গনেষ দেবনাথ খালের ভেতরের অংশ পরিষ্কার করে এবং মুখের কিছু অংশের দুই পাশে মাটি কেটে ঘুসের বিনিময়ে সমুদয় টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন। এই কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খালটি পরিষ্কার করতে পাঁচ দিনে ৯০ জন দিনমজুর কাজ করেছে এবং প্রতিদিন তাদের মজুরি হিসেবে ৩৫০ টাকা দেওয়া হয়েছে।

টিআর ও কাবিটা প্রকল্পে প্রতিটি কাজে ১০ থেকে ৩০ ভাগ টাকা পিআইও অফিসকে ঘুষ হিসেবে দিতে হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ জনগণের কাজে না লেগে ব্যক্তিগত পকেটে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাহাঙ্গীর হত্যা: কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি প্রশাসনকে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন

তালায় উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাৎ: কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টিআর (Tr) এবং কাবিটা (KGF) প্রকল্পের আওতায় গ্রাম উন্নয়নের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কোনো কাজ না করেই প্রকল্পের অর্থ বিল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, টিআর প্রকল্পের প্রথম পর্বে মাদরা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পরিতোষের বাড়ি অভিমুখে এবং শালিখা খেয়াঘাট অভিমুখে ইটের রাস্তা সংস্কারের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, ইউপি সদস্য প্রবীর মণ্ডল মাত্র দুই হাজার ইটের কাজ দেখিয়ে এবং পুরাতন রাস্তার ওপর বালু ছড়িয়ে দিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

একইভাবে, কাবিটা প্রকল্পের প্রথম পর্বে মাদরা শ্মশান ঘাটে মাটি ভরাটের কাজে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইউপি সদস্য নমিতা মণ্ডল অর্ধেক টাকার কাজ করে সমুদয় টাকা তুলে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই বিল ছাড়ানোর জন্য পিআইও (PIO) অফিসকে সন্তুষ্ট করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাগুরা শ্মশান ঘাটের মাটি ভরাটের জন্য কাবিটা প্রকল্পে ৫.৫০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম নামমাত্র কাজ করে পুরোটা তুলে নিয়েছেন।

কাবিটা দ্বিতীয় পর্যায়ে মাগুরা ক্ষত্রীয় পাড়া সুকুমারের জমির মাথা থেকে জিতেনের বটতলা পর্যন্ত মাটি দ্বারা সংস্কার কাজে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই কাজেও ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম একই ধরনের অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ। মাগুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা উত্তম সেন বাবুলাল নিজের প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক দুলাল চন্দ্র বাছাড়কে সভাপতি করে কোনো কাজ না করেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মাগুরা জান্নাতুল ফেরদৌস জামে মসজিদের নামে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে স্থানীয় রেজাউল করিমকে সভাপতি করে নামমাত্র কাজ করে সমুদয় টাকা লুটপাট করা হয়েছে।

টিআর প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে মাগুরাডাঙ্গা অমূল্য মণ্ডলের জমির মাথা থেকে মাদরা গেট অভিমুখে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গনেষ দেবনাথ খালের ভেতরের অংশ পরিষ্কার করে এবং মুখের কিছু অংশের দুই পাশে মাটি কেটে ঘুসের বিনিময়ে সমুদয় টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন। এই কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খালটি পরিষ্কার করতে পাঁচ দিনে ৯০ জন দিনমজুর কাজ করেছে এবং প্রতিদিন তাদের মজুরি হিসেবে ৩৫০ টাকা দেওয়া হয়েছে।

টিআর ও কাবিটা প্রকল্পে প্রতিটি কাজে ১০ থেকে ৩০ ভাগ টাকা পিআইও অফিসকে ঘুষ হিসেবে দিতে হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ জনগণের কাজে না লেগে ব্যক্তিগত পকেটে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।