ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবরে শনিবার নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে সমবেত আন্দোলনকারীরা উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে এখানে জড়ো হওয়া হাজার হাজার মানুষ ‘হার গায়ে, হার গায়ে, তানাশাহ হার গায়ে (স্বৈরশাসকের পরাজয় হয়েছে)’ স্লোগানে মুখরিত করে তোলে বিক্ষোভস্থল। জাতীয় পতাকা হাতে নাচ-গান, একে অপরের সঙ্গে আলিঙ্গন এবং বিজয় উদযাপনের মধ্য দিয়ে তারা এই ঘটনাকে তাদের আন্দোলনের একটি বড় সাফল্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
শনিবারই ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। তিনি পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন যে, এটি তার কাছে ‘ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়’ এবং গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে।
বিক্ষোভের নেতৃত্বদানকারী ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে মঞ্চে উঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং এ. আর. রহমানের গাওয়া ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করেন। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ‘চাক দে ইন্ডিয়া’ গানের তালে তালে নাচতে অংশ নেয়। অনেককে ড. বি. আর. আম্বেদকরের প্রতিকৃতি ও পোস্টার হাতে দেখা যায়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিজিৎ দিপকে বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ প্রমাণ করেছে যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শক্তিকে উপেক্ষা করা যায় না। তিনি আরও বলেন, ‘তারা বলত, এই সরকারে কেউ পদত্যাগ করে না। আমরা বলি, ইচ্ছাশক্তি থাকলে বিশ্বও নত হতে বাধ্য।’ তবে, তিনি ঘোষণা দেন যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে আন্দোলন শেষ হচ্ছে না। তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি, ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকার তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উত্থাপন করেন তিনি।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে দিপকে বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের ‘ককরোচ’ না বলতেন, আমি ভারতে ফিরতাম না। যুবকরাও রাস্তায় নামত না, আর ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও হতো না।’ তার এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতা ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।
পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরও যন্তর-মন্তরে মানুষের ঢল অব্যাহত ছিল এবং প্রবেশপথে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ ‘জং অভি ভি জারি হ্যায়, ই২০ কি বারি হ্যায় (যুদ্ধ এখনও চলছে, এবার ই২০-এর পালা)’ স্লোগান দিতে থাকে। মুম্বাই থেকে বাবা-মেয়েসহ বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা এক ১৭ বছর বয়সী তরুণীও এতে যোগ দেন।
রিপোর্টারের নাম 



















